কণ্ঠশিল্পী ও মানিকগঞ্জ-০২ (সিংগাইর-হরিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ফেসবুক পোস্টে তিনি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাবেক নেতাকে ইঙ্গিত করে লিখেন- ‘এই সয়তানের বাচ্চা যখন পার্টির দায়িত্বে ছিল তখনো হাতে পায়ে ধরেও কখনো হরিরামপুর নিতে পারি নাই, আর এখন ওর বাপের পেছনে পেছনে তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চা হয়ে ঘুরে বেড়ায়।’ তবে যাকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন পোস্ট দিয়েছেন তার নাম লিখেননি মমতাজ বেগম এমপি। মুহূর্তেই ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে বিভিন্ন ধরনের কমেন্টস করেন নেতাকর্মীরা। পরে রাতেই ওই পোস্টটি ফেসবুক আইডি থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। এ নিয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় চলছে কানাষুষা।
জানা গেছে, শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে হরিরামপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শিল্পপতি সিংগাইর উপজেলার জাহিদ আহম্মেদ টুলুর খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন। হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ওই মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। এ দিকে, সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল মাজেদ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল ইসলাম ও সাতজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ বেশ কিছু নেতাকর্মীরা ওই সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পর এমপি মমতাজ তার ফেসবুক আইডিতে এ পোস্ট করেন।

পোস্টটি নিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বলছেন, এমপির এই পোস্টটিতে বলধারা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল মাজেদ খানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। দীর্ঘ ২৭ বছর সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মাজেদ খান গেল ৩০ জুলাই তিন সদস্যের ঘোষিত আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে বাদ পড়েন। গত শুক্রবার জাহিদ আহম্মেদ টুলুর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করায় মমতাজ বেগম এমপি ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে এরকম পোস্ট দেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। মমতাজের এ পোস্টটিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুর রহমান শহিদ শুধু ‘টাকা’ শব্দটি লিখেই মন্তব্য শেষ করেন।
পোস্টটি নিয়ে সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: সায়েদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের এ প্রবীণ নেতা ও টানা সাতবারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবে কটাক্ষ করে মন্তব্য করা সংসদ সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ।
এ প্রসঙ্গে সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বলধারা ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল মাজেদ খান বলেন, আমাকে নিয়ে এমপির এমন মন্তব্যে জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ।