দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পারভবানীপুর গ্রামের মাঠের একটি ঘাসের জমি থেকে আবদুল ওয়াহেদ মুন্সি (৭৬) নামের এক বৃদ্ধের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ মে) সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওই গ্রামের মুন্সিপাড়ার পূর্বপাশে ঘাসের জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আবদুল ওয়াহেদ মুন্সি একই গ্রামের মরহুম মনসের আলীর ছেলে।

নিহতের ছেলে গোলাম মোস্তফা বলেন, 'সোমবার মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য আমার বাবা বাড়ি থেকে বের হন। পরে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। মনে করেছি বাবা হয়তো রাতে কারো বাড়িতে গেছেন,পরে ফিরবেন। কিন্তু রাতে আত্মীয়দের বাড়িতে খবর নিয়ে কোনো খোঁজ পাইনি। আজ সকালে গ্রামের লোকজন আমাকে খবর দেন মাঠে একটি ঘাসের জমিতে তোমার বাবার লাশ পড়ে আছে।'

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে থানা পুলিশ জানায়, নিহতের এক নারী প্রতিবেশী (মনোয়ারা বেগম) মঙ্গলবার সকালে মাঠে ছাগল দিতে যান। তিনি তখন গ্রামের পূর্বপাশের মাঠের একটি ঘাসের জমিতে ওয়াহেদের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে ওই নারী নিহতের পরিবারে খবর দিলে পরিবারের লোকজন সেখানে ছুটে যান। বিষয়টি মুঠোফোনে থানা পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মহন্ত বলেন, ভবানীপুর গ্রামে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। দিনাজপুর পিবিআই ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড মনে হয়েছে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আব্দুল্লাহ আল মাসুম ও বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মঞ্জুরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।