কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সন্তানসহ এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সম্ভুপুর গ্রাম থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন ইতালি প্রবাসী মো: ফরহাদ আহমেদের স্ত্রী জোনাকী বেগম (২৫) ও তার সন্তান আলিফ হোসেন (৩)।
জোনাকী তার বসতঘরে রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে বলে জানা যায়। নিহতের স্বজনদের দাবি, নিহত গৃহবধূর শাশুড়ির মানসিক নির্যাতনে জোনাকী বেগম এটি ঘটিয়েছে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভৈরবের সম্ভুপুর গ্রামের ফরহাদ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে ইতালি প্রবাসী। ফরহাদ ছয় বছর আগে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকার জোনাকী বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তার একটি ছেলে সন্তান হয়। স্বামী ফরহাদ ইতালিতে থাকলেও তার স্ত্রী ভৈরবের বাড়িতে শাশুড়ির সাথে বসবাস করতেন। স্বামীর পাঠানো টাকা-পয়সা, গহনা ও অন্য বিষয়ে প্রায় দিন শাশুড়ি বেবী বেগমের সাথে ঝগড়া হতো বলে জোনাকীর মায়ের দাবি। পারিবারিক কলহের কারণে জোনাকী বেগম তার শিশুসন্তানসহ বেলা সাড়ে ১১টায় তার বসত ঘরের ধরনায় গলায় রশি টানিয়ে আত্মহত্যা করেন।
প্রতিবেশী ও স্বজনদের ধারনা জোনাকী প্রথমে তার সন্তানকে ফাঁসিতে ঝুলায় এবং পরে তিনি নিজে ফাঁসিতে ঝুলেন। পরে শাশুড়ি ঘটনা দেখে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দুজনকে রশি থেকে নামিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত নিয়ে যান। হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত ডাক্তার দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
আরো জানা যায়, খবর পেয়ে জোনাকীর বাবার বাড়ির স্বজনরা হাসপাতালে এসে দুটি লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এ সময় শাশুড়ি বেবী বেগম ও তার লোকজন হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে।
নিহত জোনাকী বেগমের মা ছালেহা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শাশুড়ি বেবী বেগমের অত্যাচার মানসিক নির্যাতনে আমার মেয়ে তার সন্তানসহ এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা থানায় মামলা করব, আমি আমার মেয়ে ও নাতীর মৃত্যুর বিচার চাই। নিহতের বড় বোন ঝর্না বেগম জানান ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার নওরীন সুরভী জানান, হাসপাতালে দুজনের লাশ আনার পর আমরা দুজনকে মৃত পেয়েছি। দুজনের গলায় বড় ধরনের দাগ আছে । ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হবে।
ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক মো: জিন্না জানান, খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে এসে দুটি লাশ দেখি। পরে লাশগুলোর সুরুতহাল তৈরি করেছি। দুজনের গলায় দাগ রয়েছে। নিহতের পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিব।





