সিলেটের ওসমানীনগরের হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন তখদ্দুছ মিয়া (৪০), ইউসুফ মিয়া (২৪), খালেদ আহমদ (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩৫), আল আমিন (২২), তুরন মিয়া (৫৫), রুবেল মিয়া (৪০), আরিফ (২৫) জানু মিয়াসহ (৩০) নাম না জানা অনেকেই । আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার পর গ্রামের মতিউর রহমানের বাড়ি থেকে একটি দেশিয় তৈরি একটি শর্ট গান উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আজ ৩ আগস্ট পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা (নং-৪) এবং গ্রামবাসির পক্ষে আরেকটি মামলা (নং-৫) রেকর্ড করা হয়েছে।
জানা যায়, বুধবার দুপুরে হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলা অবস্থায় একটি পক্ষ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়ে অন্য পক্ষকে সংঘাতে জড়াতে আহ্বান করে। তখন অন্য পক্ষ জবাব দিতে এলে বিদ্যালয়ের সামনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও গ্রামের পঞ্চায়েতের লোকজন এবং গ্রামের মতিউর রহমান, রুমান আলী তুরন, সারাজ মিয়া ও সেলিম মিয়া গং- এর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে দেশীয় অস্ত্র, ইটপাটকেল প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে একটি পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি শুরু করলে তখদ্দুছ মিয়া (৪০), ইউসুফ মিয়া (২৪), খালেদ আহমদ (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩৫), আল আমিনসহ (২২) আরো দু'জন গুলিবিদ্ধ হন। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ব্যপারে ওসমানীনগর থানা অফিসার্স ইনচার্জ (৩ আগস্ট) মাছুদুল আমিন বলেন, রাতে মতিউর রহমানের বাড়ি থেকে একটি দেশিয় তৈরি শর্ট গান উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনায় জড়িত পাচঁজনকে গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে গ্রামের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমি দখল নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও পঞ্চায়েতের সাথে গ্রামের মতিউর রহমান, রুমান আলী তুরণ, সারাজ মিয়া ও সেলিম মিয়া গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি লক্ষ্যে আগামী ৭ আগস্ট উভয় পক্ষকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বৈঠকের দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল। বৈঠকের আয়োজনের পূর্বেই বুধবার দুপুরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।





