গাইনি ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতির অভাবে ১০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার একমাত্র সদর হাসপাতালের অপারেশন কার্যক্রম। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্জারি, অ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি ডাক্তার না থাকায় অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বন্ধ রয়েছে। সরকার কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে দুটি স্বয়ংক্রিয় আধুনিক অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করলেও তা জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না। দীর্ঘ দিন ধরে অযতœ আর অবহেলায় পড়ে থাকায় অপারেশন থিয়েটারের অ্যানেসথেসিয়া মেশিনসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি নষ্ট হতে বসেছে। অথচ এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো নজর দিচ্ছেন না। ফলে নষ্ট হতে বসেছে সরকারের কয়েক লাখ টাকার সম্পদ।
জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার পৌনে পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবাদানের জন্য ২০১৪ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালকে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়। এ হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ দুটি অপারেশন থিয়েটার তৈরি করা হয়। হাসপাতাল তৈরির প্রথম দিকে কিছু দিন অপারেশন থিয়েটার চালু থাকলেও ১০ বছর ধরে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় রূপান্তরের পর পোস্ট অপারেটিভ রুমসহ ৫টি অত্যাধুনিক রুম তৈরি করা হয়। সেই সঙ্গে হাসপাতালে অপরেশন চালু করার জন্য অ্যানেসথেসিয়াসহ অন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু অপারেশন থিয়েটার এবং যন্ত্রপাতি থাকার পরও শুধু সার্জারি, অ্যানেসথেসিয়া, গাইনি ডাক্তার এবং ওটি বয় ও সুইপার না থাকার কারণে ১০ বছর ধরে অপারেশন বন্ধ রয়েছে।
এ ব্যাপারে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা: মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। সেই সঙ্গে সার্জারি, অ্যানেসথেসিয়া এবং গাইনি ডাক্তার দরকার। কিন্তু এখানে এ তিনটি পদই খালি। এ ছাড়া অপারেশন রুমে আরো কিছু যন্ত্রপাতি সঙ্কট রয়েছে।