কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠিয়েছে।

শনিবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে মৃত্যু হয় তার।

নিহত গৃহবধূর নাম মৌসুমি খাতুন (২৫)। তিনি উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধনিরাম গ্রামের মনছুর আলীর মেয়ে।

এ ঘটনায় নিহতের চাচা ১৩ আগস্ট দুপুরে ফুলবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে একই ইউনিয়নের পশ্চিম ধনিরাম গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে আশেক আলীর (২৮) সাথে প্রেমের সম্পর্কের পরে বিয়ে হয় মৌসুমির। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে মনছুর আলী বিয়ের সময় আশেককে এক লাখ টাকা দেন। কিন্তু আশেক আলী তার মা-বাবার পরামর্শে আরো টাকা আনার জন্য মৌসুমির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। মৌসুমি এতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। ৮ আগস্ট সকালে আশেক আলী মৌসুমিকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আশেক আলী মৌসুমিকে মারধর করেন। খবর পেয়ে মৌসুমির নানা জাহেদুল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় মৌসুমিকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে ১১ আগস্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে লালমনিরহাট জেলা সদরে নেয়া হয়। পরে ১২ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টায় আবারো তাকে ফুলবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রাণকৃষ্ণ দেবনাথ জানান, এ ঘটনায় নিহতের চাচা নাসির আলী স্বামী আশেক আলী,শ্বশুর তাজুল ইসলাম ও শাশুড়ি রশিদা বেগমকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।