সাবেক এমপি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা নামাজে জানাজার পর বগুড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়েরকৃত মামলায় জামায়াতের মৃত দুই নেতাকেও আসামি করেছে পুলিশ। গত ১৬ আগস্ট জেলার তিন থানায় পুলিশ বাদি হয়ে দায়ের করা তিনটি মামলার এজাহারে দুইজন মৃতসহ অর্ধশতাধিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যদের ধরতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার কাহালু থানা পুলিশের এসআই দয়াল কুমার ব্যানার্জি গত ১৬ আগস্ট বাদি হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অনেককে অজ্ঞাত করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কাহালু থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে মামলার বাদি সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে তিন জামায়াত কর্মীকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন বলে আসামি পক্ষের আইনজীবী ও বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো: সাইফুদ্দিন (সাইফুল) জানান। মামলার বাদি এজাহারে উল্লেখ করেন, রাত পৌনে ৪টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাহালু থানার বিরকেদার কুমারপাড়ার এস এম মাহাবুব আলমের পরিত্যক্ত চাতালে বেশ কিছু লোক একত্র হয়ে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র হেফাজতে রেখে গোপন মিটিং করছে। এরপর সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের আরো অনেককে আসামি করা হয়। এজাহারে ৬নং আসামির নাম রয়েছে দুর্গাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি কাহালু থানার লোকনাথপাড়ার মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে মৃত ইউনুছ আলী। তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর গত প্রায় ৪ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ছাড়া ১২নং ক্রমিকে পাইকড় ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ও পাইকড় গ্রামের ক্যাসার ছেলে মৃত হানজালা (৪৫) প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু তাকেও আসামি করা হয়েছে।
একই দিন বগুড়া সদর উপজেলার মাটিডালী এলাকায় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ছয়জনের নামে নাশকতা আইনে আরো একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সদর থানার এসআই শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দুইজন সাংবাদিকসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে। অপর দিকে জেলার দুপচাঁচিয়া থানায় জামায়াতের ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অনেকের নামে আরেকটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ফসিউল আলম নামে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে দুপচাঁচিয়া উপজেলার চৌমহনী বাজারের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে। এ নিয়ে পুলিশ এ থানায় সাতজন জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াত নেতারা বলেছেন, আল্লামা সাঈদীর গায়েবানা নামাজে জানাজার পর ওই রাত থেকে পুলিশ গায়েবি মামলা দিয়ে গ্রেফতার ও হয়রানি করছে। পুলিশের সাজানো মামলায় গ্রেফতার এড়াতে নেতাকর্মীরা অনেকে ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছেন।
মামলা সম্পর্কে আসামি পক্ষের আইনজীবী ও বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো: সাইফুদ্দিন (সাইফুল) আসামিদের পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, পুলিশের দায়েরকৃত এ তিনটি মামলা সাজানো মামলা। ওই রাতে ওই সব স্থানে কোনো ঘটনাই ঘটেনি। পুলিশ আসামিদেরকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটকের পর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে চালান দিয়েছেন। গোপন বৈঠকের অভিযোগ এনে দুইজন মৃত ব্যক্তি ও একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে আসামি করেছে। কাজেই এ মামলার সত্যতা কতটুকু তা সহজেই অনুমান করা যায়।
মামলার বাদি কাহালু থানার এসআই দয়াল কুমার ব্যানার্জি মৃত ব্যক্তি আসামি সম্পর্কে বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিরা তাদের নাম দিয়েছে। পরে আমি মৃত বলে জেনেছি। তবে মৃতরা তদন্ত প্রতিবেদন থেকে বাদ যাবেন।