কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে দিন দিন মাদকের ব্যবহার বাড়ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সেই অনুযায়ী মাদক নিয়ন্ত্রণে দেখাতে পারেনি তাদের বড় ধরনের অভিযান। উখিয়া থানা পুলিশের বর্তমান অফিসার ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ আলী কক্সবাজারে ডিবি পুলিশের দায়িত্বে থাকাকালীন একটি চৌকস টিম ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এ যাবত কালের সর্ববৃহৎ ইয়াবার চালান (১৪ লাখ পিস) উদ্ধার ও দুই ইয়াবা কারবারিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেই সময়ে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার ফারুকের বাড়ি থেকে এক কোটি ৭০ লাখ ৬৩ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজার জেলা পুলিশের মতে, পুলিশের অভিযানে ইয়াবার বৃহৎ চালান আটকের ঘটনা এটি। দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নতুন নতুন মাদক আইস, এলএসডি, ক্রিস্টাল মেথ ও ইয়াবা শনাক্ত ও উদ্ধার করা হলেও বেশির ভাগ সময়ই মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। উখিয়া-টেকনাফের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা কারবারি সড়ক পথের পাশাপাশি আকাশ পথ ও নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করেন। বড় চালান আসে সাগর পথে। মিয়ানমার থেকে নদী পথে আসে ইয়াবা। ইয়াবা কারবারিদের সাথে রাজনৈতিক বড় বড় নেতার যোগসাযোশ থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এগোচ্ছে কচ্ছপ গতিতে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চারটি সংস্থা মাদক পাচার ও কারবারির সাথে জড়িতদের তালিকা আপডেটের কাজ করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি মাসে মাদকের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, পুলিশ সদর দফতর ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সুস্পষ্টভাবে বলেন, কক্সবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সারা দেশের ইয়াবার আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ দাংগরপাড়া এলাকার লেলু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শাহ। মাছ ধরার কাজ করেন একই এলাকার মনজুর মাঝির ট্রলারে। তাকেই মিয়ানমারে বন্ধক রেখে আনা হয় পাঁচ লাখ ইয়াবার একটি বড় চালান।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়। সপ্তাহ পার হওয়ার পর টাকা পরিশোধ না করায় ওই যুবকের কপালে নেমে এসেছে ভয়াবহ নির্যাতন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, এক দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে খুন করারও হুমকি দেয়া হচ্ছে মিয়ানমারে আটক যুবককে। পরে জমি বন্ধক রেখে দেড় লাখ টাকা দিয়ে মুক্তি পান ওই যুবক। শুধু এ ঘটনায় নয়, এ ধরনের ঘটনা এখন অহরহ ঘটছে টেকনাফে। আইনশৃঙখলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে ইয়াবা পাচারে পেশাদার জেলেদের বেছে নেয়া হচ্ছে। উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা গফুর মিয়া চৌধুরী বলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি কক্সবাজার উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প। এসব অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, খুন, নারী নির্যাতন ও ইয়াবা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয় ইয়াবা কারবারির হাত রয়েছে। উখিয়ায় হঠাৎ বড় লোক হয়ে যাওয়া যারা অট্টালিকা বাড়ি ও গাড়ির মালিক হয়েছেন তাদের আয়ের উৎস্য খতিয়ে দেখলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। কক্সবাজার-৪ উখিয়া-টেকনাফ আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বীরমুক্তিযোদ্ধা জাফর আলম চৌধুরী বলেন, ইয়াবা মাদক যুব সমাজকে একেবারেই ধ্বংস করে ফেলেছে। উখিয়া ও টেকনাফে ইয়াবা মাদকে আসক্ত ছেলে তার বাবাকে হত্যা করেছে। ১৯৯৬ সালের পর থেকে উখিয়া-টেকনাফে ইয়াবা মাদকের বিস্তার ঘটে। এখন ইয়াবা মাদকের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। উখিয়া-টেকনাফ তথা পুরো কক্সবাজার জেলার মানুষ আতঙ্কে আছে।





