খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি-মানিকছড়ি সড়কে রাঙ্গাপানি এলাকায় নবনির্মিত একটি কালভার্টের ওপর যানবাহন চলাচল করতে না পারায় প্রায় একমাস ধরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

জানা যায়, সড়ক ও জনপথ কর্তৃক নির্মিত ওই কালভার্টের ওপর দিয়ে বাস চলাচল করতে না পারার কারণে লক্ষ্মীছড়ি-খাগড়াছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি-চট্টগ্রাম এবং লক্ষ্মীছড়ি-ঢাকাগামী সকল যানবাহন বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, মূল সড়ক থেকে প্রায় চার-পাঁচফুট উঁচু করে কালভার্টটি নির্মাণ করার কারণেই এমনটি হয়েছে। নিচের মাটি কম কাটা হয়েছে কিংবা ড্রয়িং ডিজাইন ঠিক রাখতে গিয়ে কি উঁচ্চতা বেশি হলো, না বৃষ্টির পানি সড়ক দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই কালভার্ট উঁচু করা হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।

বর্তমানে লক্ষ্মীছড়ি সাথে দূরপাল্লার বাস চলাচল না করার কারণে দূর্ভোগে পরেছে যাত্রীরা। মালামাল পরিবহন খরচ যেমন বেড়েছে তেমনি চরম ভোগান্তিতে পরেছে ব্যবসায়ীরা। কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে রাতে ঢাকাগামী যাত্রীরা। লক্ষ্মীছড়িতে শান্তি পরিবহন না আসার কারণে মানিকছড়ি মহামুনীতে গিয়ে মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মারাত্বক ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

লক্ষ্মীছড়ি জিপ সমিতির লাইনম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লক্ষ্মীছড়িতে বড় কোনো গাড়ি আসতে পারছে না। রাঙ্গাপানি এলাকায় কলাভার্ট উঁচু করে নির্মাণ করার কারণে। কালাভার্ট-এর দুই পাশে মাটি দিলেই গাড়ি আসা-যাওয়া করতে পারত বলে তিনি জানান।

শান্তি পরিবহনের মানিকছড়ি প্রতিনিধি বাবলু জানান, যাত্রী সেবার উন্নতির জন্য আমরা লক্ষ্মীছড়ি থেকে সরাসরি ঢাকা পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু করেছি। বেশ কিছু দিন হলো আমাদের গাড়ি লক্ষ্মীছড়ি যেতে পারছে না। কারণ রাঙ্গাপানির কালভার্টি রাস্তা থেকে অনেক উঁচু তাই বড় গাড়ির ইঞ্জিন আটকা পড়ে যায়। যেহেতু কালভার্ট ছোট এবং অতিরিক্ত উঁচু দুই পাশে মাটি না থাকার কারণেই বাস যেতে পারছে না।

জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদ বলেন, ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই কাজটি শেষ হলে যান চলাচল করতে পারবে।
২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যায়ে লক্ষ্মীছড়ি-মানিকছড়ি সড়কে রাঙ্গাপানি এলাকায় একটি কালভার্ট নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগ।