কোনো কার্যালয়ে সপ্তাহের এক দিন আবার কোনোটিতে অর্ধেক বেলায় চলছে দলিল নিবন্ধনের কাজ। তিনজন সাবরেজিস্ট্রারের মাধ্যমে কোনো মতে চলছিল ছয়টি কার্যালয়। কিন্তু তাদের দু’জন অবসরে যাওয়ায় শূন্য হয়ে পড়ে দুই কার্যালয়ের সাবরেজিস্ট্রারের পদ। সেই থেকে সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসে ছয়টি কার্যালয় সামলাতে হচ্ছে একজন সাবরেজিস্ট্রারকে।
কোনো কার্যালয়ে সপ্তাহের এক দিন আবার কোনোটিতে অর্ধেক বেলায় চলছে দলিল নিবন্ধনের কাজ। ফলে কাজকর্মে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ঘুরেও দলিল নিবন্ধনের কাজ করতে পারছেন না ক্রেতা-বিক্রেতারা।
জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ে ছয়টি সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় দুটি এবং অন্য চার উপজেলায় একটি করে কার্যালয় রয়েছে। এ ছয় কার্যালয়ের দায়িত্ব তিনজন সাবরেজিস্ট্রার সামলাচ্ছিলেন। গত বছরের জুন-জুলাই মাসে সদর উপজেলার সাবরেজিস্ট্রার আবদুর রশিদ ও পীরগঞ্জ উপজেলার সাবরেজিস্ট্রার রবিউল আলম অবসরে যান। এতে ওই দু’জনের দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলার সদর ও ভুল্লি, পীরগঞ্জ, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী কার্যালয়ের সাবরেজিস্ট্রারের পদ শূন্য হয়ে যায়। শূন্য পদে লোক না দেয়ায় এসব কার্যালয়ের দায়িত্ব এসে পড়ে রানীশংকৈল উপজেলার সাবরেজিস্ট্রার শফি আকরামুজ্জামানের ওপর। সেই থেকে তিনি একাই ছয়টি কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
আর এ দায়িত্ব সামাল দিতে শফি আকরামুজ্জামান কোনো কার্যালয়ে সপ্তাহে এক দিন, আবার কোনো কার্যালয়ে অর্ধেক বেলা থাকছেন। এখন সদরে পুরো এক দিনের সাথে আরেক দিনের অর্ধেক বেলা, পীরগঞ্জ ও বালিয়াডাঙ্গীর লাহিড়ী হাটে পুরো এক দিন আর রানীশংকৈল, হরিপুর ও ভুল্লিতে আধা বেলা দলিল নিবন্ধনের কাজ চলছে।
ঠাকুরগাঁও দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ সরকার বলেন, কর্মকর্তা না থাকায় তাদের সপ্তাহে চার দিন অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। কয়েকজন দলিল লেখক জানান, এক কর্মকর্তা জেলার ছয়টি কার্যালয়ে সাবরেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করায় কাজকর্মে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। কমে গেছে দলিল নিবন্ধনের সংখ্যা।
সদর উপজেলার দলিল লেখক ও সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে সপ্তাহে তিন দিনে গড়ে ৩০০টি দলিল নিবন্ধন হতো। আর এখন সেটা নেমে এসেছে ১৩০ থেকে ১৫০টিতে।
রানীশংকৈল উপজেলার ভবানন্দপুর গ্রামের পরেশ বর্মণ জানান, তার মেয়ের হঠাৎ বিয়ে ঠিক হওয়ায় টাকা জোগাড়ে জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলেও সাবরেজিস্ট্রার না থাকায় দলিল রেজিস্ট্রি করে দিতে পারছেন না। ফলে জমির ক্রেতা তাকে অর্ধেক টাকাও দিতে চাইছেন না। নিরুপায় হয়ে তিনি দাদন ব্যবসায়ীর কাছে সুদে টাকা নিচ্ছেন।
৮ আগস্ট ঢাকা থেকে ভুল্লি সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আসা আইয়ুব আলী বলেন, জমির মূল দলিল হারিয়ে গেছে। তাই নকল (সার্টিফায়েড) তুলতে এসেছি। কিন্তু সাবরেজিস্ট্রার নাকি আসবেন এক সপ্তাহ পর। অফিসের কাজকর্ম ফেলে এ সাত দিন কি বাড়িতে বসে থাকা যায়?
আগে বালিয়াডাঙ্গীর লাহিড়ী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে সপ্তাহে তিন দিন জমি নিবন্ধন চলত। এখন চলে মাত্র এক দিন। এ নিয়ে উপজেলার পাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা খসিউর রহমান বলেন, তিনবার গিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়েছে। এতে মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন জমি রেজিস্ট্রি চললে মানুষের ভোগান্তি কমত।
ছয়টি সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করা শফি আকরামুজ্জামান বলেন, একা ছয়টি কার্যালয় সামলাতে গিয়ে সমস্যা তো হবেই। তবু মানুষের ভোগান্তির কথা ভেবে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।
জেলা রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দীন বলেন, সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসে ছয়টি কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করা কষ্টকর। এতে সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। শূন্য পদে যেকোনো সময় নতুন সাবরেজিস্ট্রার পাওয়া যাবে। তখন আর এ ভোগান্তি থাকবে না।