হাড় কাঁপানো শীতে সন্ধ্যায় একটু আশ্রয়ের আশায় ভাতিজার বাড়িতে এসেছিলেন নিঃসন্তান এক বৃদ্ধ। কিন্তু ভাতিজারা কেউ বাড়িতে তাকে আশ্রয় দেয়নি। সারারাত বাড়ির আঙ্গিনায় পৌষের শীতে কাঁপলেও দয়া হয়নি কারো। সকালে বাড়ি-সংলগ্ন বড়াল নদীতে মিলেছে আশ্রয়হীন ওই বৃদ্ধের লাশ।
শনিবার সকালে নাটোরের বড়াইগ্রামের পারবাগডোব গ্রামের বড়াল নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
বৃদ্ধ মগরব আলী (৮০) ওই গ্রামের মরহুম আইজুদ্দিন মোল্লার ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা নদীর পানিতে তার ভাসমান লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এ সময় তার পরণে শুধু লুঙ্গি ছিল। তবে তিনি কিভাবে নদীতে গেলেন তা এখনো জানা যায়নি।
বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ওয়ারছেল আলী জানান, এক সময় জায়গা-জমি থাকলেও পরে সহায়ম্বলহীন ও নিঃসন্তান মগরব আলী উপজেলার পারকোলে ঘর-জামাই থাকতেন। প্রায় ১৫ বছর আগে তার স্ত্রী মারা গেলে আশ্রয় মেলে বৃদ্ধাশ্রমে। কয়েকদিন আগে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে রেখে যায়। কিন্তু তারাও তাকে নিতে রাজি হয়নি। গত সপ্তাহে তিনিসহ কয়েকজন লোক মগরব আলীকে বাড়িতে আশ্রয় দেয়ার জন্য ভাতিজা গুলজার হোসেনকে অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা রাতে থাকতে দিলেও সকালে আবার বের করে দেয়। এ সময় মনের কষ্টে তিনি রাস্তায় গাড়ির নিচে পড়ে আত্মাহত্যার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আবারো শ্বশুরবাড়িতে রেখে আসে। শুক্রবার বিকেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ভাতিজা গুলজারের বাড়ির গেটের সামনে ফেলে রেখে যায়। কিন্তু ভাতিজাসহ তার সন্তানরা কেউই তাকে ঘরে তুলে নেয়নি। এর ফলে তাকে সারারাত বাড়ির গেটের সামনেই পড়েছিলেন। প্রচণ্ড শীতে কাতরালেও ভাতিজারা তাকে আশ্রয় দেয়নি। পরে সকালে বাড়ির সামনের নদীতে তার লাশ পাওয়া যায়।
গুলজার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি রাতে বাড়িতে ছিলেন না দাবি করে বলেন, ‘যখন তাকে বাড়িতে রেখে যায়, তখন আমরা অন্যত্র একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলাম। রাতে আমি বাড়িতে এসে তাকে দেখলেও হাসপাতালে আমার পুত্রবধূর সন্তান হওয়ায় সেখানে চলে গিয়েছিলাম।’
এ সময় গেট তালাবদ্ধ করে একজন বৃদ্ধ মানুষকে শীতের মধ্যে বাড়ির বাইরে ফেলে রেখে কিভাবে চলে গেলেন জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিউল আজম খান জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আপাতত থানায় একটি অপৃমত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।





