বরিশালে সরকারি ৩৩ শতাংশ জমির ওপর নার্সিং কোয়ার্টারের পুকুরটি রাতের আঁধারে বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। মৌজা ম্যাপ, দলিলে পুকুর উল্লেখ থাকলেও তা মানছেন না ভরাটকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পরিবেশ অধিদফতর।
ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগেই জলাধার সংরক্ষণ আইন অমান্য করা হচ্ছে প্রকাশ্যে, যা পরিবেশ আইন ২০০০ ও সংশোধিত ২০০৫ এর সরাসরি লঙ্ঘন। এতে স্থানীয় ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৯নং ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোডে অবস্থিত পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের আওতাধীন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং একই অধিদফতরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেইনিং সেন্টার (নিপোর্ট) পুকুর ভরাটের কার্যক্রম চালাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের দেয়াল ভেঙে গত বৃহস্পতিবার মাঝরাতে ট্রাকে করে বালু এনে পেছনের পুকুরটি ভরাট শুরু করা হয়। একরাতেই পুকুরের বেশির ভাগ অংশ ভরাট করে ফেলা হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ও স্থানীয় ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর আলেকান্দা মৌজায় ১৬১১ খতিয়ানে ও ২৪৫৪ দাগে ৩৩ শতাংশ জমিটি পুকুর হিসেবে উল্লেখিত। কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা জমিটির শ্রেণী পরিবর্তন করে পুকুরটি নিচু জমি দেখিয়ে সেখানে ভরাট করে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের প্রকল্প পাস করিয়েছেন।
আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট বরিশালের অফিস প্রধান শওকত আলী বলেন, জমিটি এক বছর আগেও আমাদেরই ছিল। পরে সমাঝোতা ভিত্তিতে গত বছর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে দেয়া হয়েছে। জমিটি দেয়ার সময়ে আমরা এটি পুকুর হিসেবে উল্লেখ করেছিলাম।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, যে স্থানটি ভরাট করা হচ্ছে সেখানে পুকুরের অস্তিত্ব আছে কি? ওটা নিচু জমি। জায়গাটি ভরাট করে সেখানে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের প্রকল্প রয়েছে। সরকারি দলিলে পুকুর, পুকুর ভরাট করা আইনসম্মত কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমি এক বছর আগে এখানে জয়েন করেছি। ভবন নির্মাণের প্রজেক্ট তার আগেই পাস করা ছিল। এ ক্ষেত্রে আমার করার কিছু নেই।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বরিশালের সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, পরিবেশ আইন ২০০০ ও সংশোধিত ২০০৫ অনুসারে কোনো পুকুর বা জলাশয় ভরাট দণ্ডনীয় অপরাধ। এমনকি নিজ সম্পত্তি হলেও তা করা যাবে না। আমরা এই পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবারই পরিবেশ অধিদফতরের জেলা কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতর অভিযোগ পেয়ে উদাসীন থাকায় পুকুর ভরাটের কাজ চলছে। ভরাট বন্ধে পরিবেশ অধিদফতর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
পরিবেশ অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এএইচ রাশেদ জানান, এটি জেলা কার্যালয়ের দেখার কথা। জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কামাল মেহেদী বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়ে অফিসের স্টাফ রফিক মিয়াকে সরেজমিনে পাঠিয়েছি এবং কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে।