নাটক, চলচ্চিত্র, ওয়েবসিরিজে জনপ্রিয় শিল্পীদের হাতে সিগারেট ও ধূমপানের দৃশ্য কিশোর-তরুণদেরকে ধূমপানে প্ররোচিত করছে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের সাথে সাথে তরুণদের বিপথগামী করছে ও ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনে নাগরিকদের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা নিশ্চিতে আজকের কিশোর-তরুণদের ধূমপানসহ সব ক্ষতিকর নেশা থেকে বিরত রাখা প্রয়োজন।
গতকাল বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) ও প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠন আয়োজিত শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে লিফলেট ক্যাম্পেইন এবং অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, সিগারেট কোম্পানিগুলোর কৌশলী বিজ্ঞাপন, প্রচারণা এবং অপতৎপরতার কারণে কিশোর-তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে। ধূমপানের দৃশ্য না থাকলে চলচ্চিত্র ব্যবসা সফল হবে না, এ ভ্রান্ত ধারণা থেকে নির্মাতা, শিল্পী-কলাকুশলী, প্রযোজক, পরিচালক সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীদেরকে চলচ্চিত্র নির্মাণে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ক্যাম্পেইনে জানানো হয়, বিশ্বে প্রতি বছর ৮৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় তামাকের কারণে! পরোক্ষ ধূমপানে মারা যায় ১৩ লক্ষাধিক মানুষ, যা সড়ক দুর্ঘটনা, এইচআইভি এইডস, সন্ত্রাসসহ আরো বিভিন্ন কারণে পৃথিবীতে সম্মিলিত মৃত্যুর মোট যোগফলের চেয়েও বেশি। বাংলাদেশে গত চার বছরে করোনায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছেন। অথচ তামাকজনিত রোগে প্রতি বছর এক লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়! বাড়িতে, পাবলিক প্লেস-পরিবহন, কর্মস্থলে আক্রান্ত হয় প্রায় আট কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশে উঠতি বয়সী (১৩-১৫ বছর বয়সী) ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তামাক ব্যবহার করে ৯ দশমিক ২ শতাংশ। এদের উল্লেখযোগ্য অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এ সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। করোনার চেয়ে বড়, নীরব মহামারী হলো ‘তামাক’। কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত তামাকের ছোবল থেকে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, অর্থনীতি কোনো কিছুরই রক্ষা নেই। এজন্য নাটক, চলচ্চিত্র এবং নতুন মিডিয়ায় প্রচারিত কন্টেন্টগুলোতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং এ সংক্রান্ত একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করতে হবে।
কর্মসূচিতে প্রায় অর্ধশত শিশু-কিশোর ও তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মীরা অংশ নেন। আরো উপস্থিত ছিলেন প্রত্যাশার সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ এবং ডাস এর টিম লিডার আমিনুল ইসলাম বকুল প্রমুখ।





