কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে গত এক দশকে শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারণার স্বীকার হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিনিয়োগকারীরা।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্যবে গ্রাহকরা দ্রুত বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আনিসকে আইনের আওতায় এনে গ্রাহকদের বিনিয়োগ করা অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের মরহুম ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে আনিসুর রহমান বিশ্বাস ও তার ভাই আবু সাইদ বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে এনজিও চালু করেন। বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দেবার আশ্বাসে সমিতির সদস্য সংগ্রহ শুরু করেন এবং এনজিওর সদস্যরা লাখে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা মাসিক লভ্যাংশের আশায় লাখ লাখ টাকা লগ্নি করতে থাকেন বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে। পরবর্তীতে দেখা যায় গ্রাহকের টাকা নিয়ে গ্রামে পরিপাটি করে বাড়িঘর নির্মাণ ছাড়াও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহাবুব উল আলম হানিফের বাড়ি-সংলগ্ন ৭ তলা ভবন ছাড়াও চার শতাংশ জমি ক্রয়, কুমারখালী কাজীপাড়া মেইন রোডের সাথে ১৯ শতাংশ মুল্যবান জমি ক্রয় ও ঢাকা বিভিন্ন এলাকায় তিন-চারটি ফ্ল্যাট কিনে বিলাসী জীবন যাপন করতে থাকেন আনিসুর রহমান ও তার ভাই। সদস্যরা বিষয়টি অনুমান করতে পেরে তাদের লগ্নি করা টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় নানা টাল বাহানা। একাধিকবার সময় দিয়েও টাকা ফেরত না দিলে সদস্যদের চাপে আলাউদ্দিন নগরের বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের মূল অফিসসহ প্রায় সব শাখাতে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় এনজিও কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কাজলী খাতুন জানান, আমার মেয়ে ও জামায়ের ১৫ লাখ টাকা বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে রেখেছিলাম কিন্তু এখন আর টাকা দিচ্ছে না, আমার স্বামী আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। সেসময় তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমানকে আইনের আওতায় আনা হোক।
এছাড়া ভুক্তভোগী লিয়াকত বিশ্বাস জানান, আমার ছেলেকে প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা প্রথমে বিনিয়োগ করায়,পরবর্তীতে আমি নিজে জমি বিক্রি করে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা রেখেছিলাম। বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে রয়েছে। লোকমুখে শুনতে পায় সে তার সম্পত্তি বিক্রি করে বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
জানা গেছে, সারাদেশের ১২টি জেলায় বিভিন্ন নামে ৬৪টি এনজিওর শাখা তৈরি করা হয়। ৬৪টি শাখায় ১৫৩ জন কর্মী নিয়োগ দেয়া হয় এবং কর্মচারিদের কাছ থেকে একাধিক ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প নেয়া হয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার কথা বলে। এসব কর্মীদের দিয়ে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে লগ্নি করানো হয়। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বিশ্বাস ও তার ভাই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু সাঈদ বিশ্বাস দু’জনের দু’টি প্রাইভেটকার ছাড়া অন্য পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য আরো তিনটি প্রাইভেটকার কেনা হয়। কুমারখালীসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় মোট ছয়টি টিভি ফ্রিজ ও নিত্য ব্যবহারের শোরুম চালু করা হয়। এবং এসব শোরুমে মালামাল পরিবহনের জন্য দু’টি কাভার্ডভ্যান কেনা হয়। গ্রামে পরিপাটি করে বাড়িঘর নির্মাণ ছাড়াও কুষ্টিয়া- ৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহাবুব উল আলম হানিফের বাড়ি সংলগ্ন ৭ তলা ভবন ছাড়াও চার শতাংশ জমি ক্রয়, কুমারখালী কাজীপাড়া মেইন রোডের সাথে ১৯ শতাংশ মুল্যবান জমি ক্রয় ও ঢাকা বিভিন্ন এলাকায় তিন-চারটি ফ্ল্যাট কিনে বিলাসী জীবন যাপন করতে থাকেন আনিসুর রহমান ও তার ভাই। ২০২২ সালে সারা বাংলাদেশে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশে মালঞ্চ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ নামের এমআরএ সনদ ৪৫ লাখ টাকায় ক্রয় করেন। ২০২৩ সালের শুরুতেই ধস নামে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের।





