জীবনের শেষ দিনও পাঠকের হাতে পত্রিকা তুলে দিয়ে গেছেন সেই লোকমান হেকিম চৌধুরী (৭২)। তিনি দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে নবীনগরের পাঠকদের হাতে সংবাদপত্র তুলে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কনিকাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। লোকমান হেকিম চৌধুরী নবীনগর লঞ্চ ঘাটে বসে দীর্ঘ প্রায় ৫৭ বছর ধরে কাকডাকা ভোরে, ঝড়-বৃষ্টি-তুফান উপেক্ষা করে যথাসময়ে নবীনগরের পাঠকদের সংবাদপত্র পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। সংবাদপত্র কেনার জন্য লঞ্চ ঘাটে ছুটে আসত নানা শ্রেণীর সংবাদ পাঠক। তিনি নবীনগর প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষ কাছে চৌধুরী নামে পরিচিত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার নবীনগর উপজেলার একমাত্র সংবাদপত্র এজেন্ট ছিলেন।
তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে গেলে তার একমাত্র ছেলে খান জাহান আলী চৌধুরী উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও মারা যাওয়ার দিনও বিক্রি করেছেন পত্রিকা।
গতকাল বাদ জুমা কনিকাড়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। মুত্যুকালে স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে রেখে যান।
লোকমান হেকিম চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদে শোক প্রকাশ করেছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল, উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর ফরহাদ শামীম, নবীনগর থানার ওসি মাহবুব আলম, নবীনগর পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মাঈনউদ্দিন আহমেদ, নবীনগর প্রেস ক্লাবসহ স্থানীয় সংবাদকর্মী, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।