রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পুলিশ সেজে গাড়িতে ছিনতাই চক্রের এক সদস্যকে অভিযান চালিয়ে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৮ মার্চ) দুপুরে আটক সুমনের বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রানবন্ধু চন্দ্র বিশ্বাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান।

এর আগে রোববার দিবাগত রাতে দৌলতদিয়ায় পুলিশ সেজে যানবাহনে চাঁদাবাজ চক্রের সুমন খন্দকার (২১) নামে এই সদস্যকে গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ আটক করে।

সে দৌলতদিয়া শাহাদত মেম্বার পাড়ার সেকেন খন্দকারের ছেলে। অনুসন্ধানে জানা গেছে আটক সুমনসহ পাঁচ-ছয় সদস্যের ওই ছিনতাই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফেরি ঘাটে ছিনতাই করে আসছে।

জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে আসন্ন রোজার ঈদকে সামনে রেখে নানা ধরনের ছিনতাই চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। এতেকরে বিপাকে পড়ছে ঘাটে খেটে খাওয়া সাধারণ শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অভিজ্ঞ মহল বলছে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এরুটে যানবাহনের চাপ কমে যাওয়ায় দৌলতদিয়ায় সাধারণ মানুষের রোজগার এমনিতেই কমে গেছে। তার ওপর চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম থামাতে না পারলে এরুটে যাত্রী পারাপার আরো কমে যাবে।
এতেকরে ঘাট কেন্দ্রীক শ্রমিকরা আরো বিপাকে পড়বে।

দৌলতদিয়া ঘাটের আতিয়ার, খইমদ্দিন ও জনিসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, সুমন ও তার সাথে থাকা পাঁচ-ছয়জনের একটি গ্রুপ আছে। তারা পুলিশের সার্জেন্ট সেজে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা দূর দূরান্ত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের কাগজ পত্র চেক করার নামে চাঁদাবাজী করে থাকে। পুলিশ পরিচয়ে প্রথমে গাড়ির কাগজপত্র নেয়। এরপর চালকদের কাছে যা কিছু থাকে সব ছিনিয়ে নেয়। ওই চক্রটি গভীর রাতে সুযোগ বুঝে এ কাজ করে থাকে। এরা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে একাধিকবার জেলও খেটেছে।

থানার ওসি জানান, রোববার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে সুমনসহ পাঁচ-ছয়জনের একটি সংবদ্ধ গ্রুপ দৌলতদিয়া ঘাট সিদ্দিক কাজি পাড়া জিরো পয়েন্টে ঢাকা খুলনা মহাসড়কে পুলিশ পরিচয়ে গাড়িতে তল্লাশি করে চাঁদাবাজি করছিল। পুলিশ গোপনে এ সংবাদ পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে সুমন খন্দকারকে আটক করতে পরালেও অন্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সুমন চাঁদাবাজির ঘটনা শিকার করেছে। এ ছাড়া সে সংবদ্ধ অন্য সদস্যদের নাম পরিচয়ও জানিয়েছে।

ওসি আরো জানান, আটক সুমন খন্দকারের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে আরো দুটি মামলা রয়েছে। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে আসছিল। তিনি আরো বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পুলিশ তৎপর রয়েছে। দৌলতদিয়ায় যেকোনো ধরনের অপকর্ম কঠোর হস্তে দমন করা হবে।