দেশের অত্যন্ত ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি স্থানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। গত চার মাসে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ৪৪ জন আহত হয়েছেন। মহাসড়কের মিরসরাইয়ের সুফিয়া রোড এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাসড়কের সুফিয়া রোড এলাকায় সবসময় লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে। কিন্তু ওই স্থানে সামান্যতমও পার্কিং স্পেস বা যাত্রী ওঠানামার কোনো বাইলেন নেই।
সর্বশেষ গত ১৪ মার্চ বিকেলে বারইয়ারহাট-চট্টগ্রামের মাদারবাড়ি রুটে চলাচল করা চয়েস পরিবহনের একটি বাসের পেছনে সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দিলে দুই বাসের ৩০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করান। ৮ মার্চ সকালে একটি বেপরোয়া কাভার্ড ভ্যানের চাপায় পাঁচটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় পাঁচ সিএনজি চালক গুরুতর আহত হন। গত ২৫ নভেম্বর সকালে একটি লরির চাপায় তিন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ১৪ নভেম্বর একটি কাভার্ডভ্যান দু’টি বেকারির সামগ্রী বহনকারী ভ্যানকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজন প্রাণ হারান। এ সময় আরো পাঁচজন আহত হন। আহতদের অনেকে এখনো সুস্থ হননি।
স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলম জানান, সুফিয়া রোড এলাকা এখন আতঙ্কের নাম। সড়কে গাড়ি দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামায় প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া ফিলিং স্টেশন থেকে তেল, গ্যাস নেয়ার জন্য উল্টো পথে চলাচল করা গাড়ি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল সরকার বলেন, মহাসড়কের সুফিয়া রোড এলাকায় মানুষের ওঠানামার সমাগম থাকা সত্ত্বেও নেই বাস-বে বা ন্যূন্যতম মিনি স্পেস, যেখানে সেফলাইন বা বাসগুলো দাঁড়াবে। এখানে যেনতেনভাবে গাড়িগুলো যখন তখন দাঁড়াচ্ছে আর দূরপাল্লার গাড়িগুলো অনেকসময় নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে মহাসড়কের উপরেই লোকাল গাড়িগুলোর খামখেয়ালিপনার দরুন। অনেকসময় একটি লোকাল গাড়ি হুট করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো দূরপাল্লার কোনো গাড়ি গতি নিয়ে আসছে কি না ভ্রƒক্ষেপ না করেই টান দিচ্ছে সড়কের বাকি অংশ দখল করে। ঠিক সে সময়ই দ্রুতগামী গাড়ি তাল সামলাতে পারছে না সঙ্কীর্ণ এ অংশে।
এ বিষয়ে সড়ক বিভাগের আঞ্চলিক প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন বলেন, আমি নিজেও এখানে কয়েকবার দুর্ঘটনার মুখে পড়েছি। একজন যাত্রী পেলেও কোনো কোনো বাস পেছনের দ্রুতগতির গাড়ির দিকে তোয়াক্কা না করে হুট করে রাস্তার মাঝখানেই দাঁড়িয়ে যায়। এতে পেছনের গাড়ি তাল সামলাতে না পারলেই দুর্ঘটনা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সমস্যা সমাধানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককের এ অংশে চার লেন থেকে ১২ লেনে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার কাজ ও শিগগিরই শুরু হবে। আর তখন পর্যাপ্ত বাস-বে, ওভারপাস, আন্ডারপাস সবই করা হবে। তবে সে পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ দ্বারাই যত্রতত্র বাস থামানো বন্ধ করাতে হবে।
একই স্থানে দুর্ঘটনায় ৪ মাসে ৫০ জন হতাহত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
দেশের অত্যন্ত ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি স্থানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। গত চার মাসে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ৪৪ জন আহত হয়েছেন। মহাসড়কের মিরসরাইয়ের...





