খাগড়াছড়ির রামগড়ে উপজেলায় ভারত সীমান্তবর্তী ফেনী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ২৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা ফায়ার সার্ভিস এ খবর দিলে নয়নকে উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে আসা ডুবুরী দল ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর তীব্র শ্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করে।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ফেনীরকুলের নামার চর এলাকায় জাল দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে বাদশা (১৬) নদীতে ডুবে যায়। অপরদিকে বুধবার বিকেল ৩টায় রামগড়ের বল্টুরাম টিলা এলাকায় বরশি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে পড়ে যায় মো: নয়ন (১৩)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার পর গত তিন-চার দিন রাত-দিন শতশত মানুষ রামগড়ের ফেনীরকুল এলাকার নামার চর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী ফেনী নদীতে মাছ ধরে আসছিল। রুই, কাতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা পড়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সৌখিন মৎস্য শিকারীরা মাছ ধরার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়। পাশাপাশি ফটিকছড়ি, নাজিরহাট, মীরসরাই, ফেনী, নাকাপা গুইমারাসহ বিভিন্ন স্থানের পেশাদার জেলেসহ দলে দলে চর এলাকায় ঝড়ো হতে থাকে। এ সময় তারা বিজিবির বাঁধা উপেক্ষা করে রাতদিন মাছ ধরতে থাকে। অধিক পরিমাণে মাছ পাওয়ায় পুরো এলাকাজুরে চলতে থাকা মাছধরা উৎসবে। গত কয়েকদিন জাল হারানোসহ, ডুবোচরে আটকে যাওয়ার পর অন্যদের সহাতায় উদ্ধার করার মতো ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী আরিফ, জসিম, লাব্রেঅং জানান, নদীতে ডুবে নিখোঁজ বাদশার বাড়ি রামগড়ের নাকাপা এলাকায়। সে নাকাপার আব্দুর জাব্বারের ছেলে। অন্যদিকে বল্টুরাম এলাকার নয়নের বাবা মো: শফি বলে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম আগ্রবাদের ডুবুরী দলের সাব অফিসার মো: জসিম উদ্দিন জানান, তীব্র শ্রোত এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।