২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসায় হামলা ও তাকে হত্যাচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে দেয়া মামলা রেকর্ড করে আসামি গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন দলটির কো-চেয়ারম্যান সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
শনিবার (৩১ মে) বিকেল ৫টার দিকে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে নগরীর সেন্ট্রাল রোডের দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি মোস্তফার নেতৃত্বে প্রেসক্লাব চত্বর ঘুরে টাউন হলের সামন থেকে পায়রা চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
এদিকে বিক্ষোভ ও সমাবেশে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করতে দেখা যায়।
সমাবেশে বক্তব্যকালে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে একমাত্র জাতীয় পার্টি ব্যানার নিয়ে, লাঠি নিয়ে বৈষম্যবিরোধীদের পক্ষে ছিল। আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। সেগুলো বলতে চাই না। আবু সাঈদের কবরে রাজনৈতিক দল হিসেবে জি এম কাদেরসহ আমরা প্রথম গিয়েছি। জিয়ারত করেছি। সহযোগিতা করেছি। আজকে সেই এনসিপির কুলাঙ্গাররা জাতীয় পার্টির বিপক্ষে লেগেছে। আমরা চাই, প্রশাসন সরে দাঁড়িয়ে মাঠ ফ্রি করেন। আমাদের শক্তিমত্তা আছে কি না আমরা একটু জানান দিতে চাই।’
কোতয়ালী থানার ওসিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘মামলা যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেকর্ড না হয়, তাহলে আপনারা বুঝবেন জাতীয় পার্টি কী করতে পারে। থানা ঘেরাওসহ অন্য কর্মসূচি কিন্তু আমরা নিব। আমরা চাই, আইন আইনের গতিতে চলবে। আপনারা তদন্ত করে দেখবেন। ভিডিও ফুটেজ আছে, কারা কারা এ সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িত তাদের গ্রেফতার করবেন। আমরা চাই না, মব ভায়োলেন্স করি। তারা যদি অ্যাকশন করে, রিয়াকশনে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার জন্য জাতীয় পার্টি প্রস্তুত আছে।’
এ সময় তিনি নগরীর প্রত্যেক নেতাকর্মীকে আগামী দিনে এরশাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাতে নগরীর সেনপাড়ায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পৈত্রিক নিবাস স্কাইভিউতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাড়িটির দরজা-জানালা ভাঙচুর ও সামনে থাকা মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার জন্য এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দায়ী করছে জাতীয় পার্টি। হামলার ঘটনায় জি এম কাদের ও তার পিএস তৈয়বকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সন্ত্রাস দমন ও বিস্ফোরক আইনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর মহানগরীর আহ্বায়কসহ সাতজনের নাম ও অন্যদের নাম উল্লেখ করে ২২ জনের নামে মামলা করা হয়। মামলাতে আরো ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে শুক্রবার (৩০ মে) রাতে এজাহার দায়ের করে জাতীয় ছাত্র সমাজের সদস্য সচিব আরিফ আলী। তবে ওই মামলা এখনো রেকর্ড করা হয়নি।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, ‘এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’








