ভাগ্য পরিবর্তন করতে ১৯৯৫ সালে কাজের ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান বগুড়ার মো: মিনহাজ মন্ডল। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে প্রথমে সাধারণ একজন শ্রমিক থেকে শূন্য হাতে ধীরে ধীরে সবার মন জয় করে একের পর এক সাফল্য অর্জন করতে থাকেন তিনি। এখন তিনি একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক। সেগুলোতে কাজ করছে শত শত বাংলাদেশী কর্মী।
মিনহাজ সপরিবারে রাজধানীর সেতাপাকে নিজস্ব বাড়িতে থাকছেন ২৫ বছর ধরে। তবে এই সাফল্যের পথ কুসুম-কোমল ছিল না। দূর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে।
তার বড় ছেলে মেহেরাজ শাওনকে মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা শেষে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠালেন এরো-রোবটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এ উচ্চতর শিক্ষার জন্য। সম্প্রতি তার মেয়ে মেহেরিন প্রীতি মালয়েশিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে
গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করায় বাংলাদেশ কমিউনিটিতে প্রশংসিত হয়েছেন। মিনহাজ মন্ডলের ইচ্ছা তার মেয়ে চিকিৎসক হয়ে প্রবাসীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। তার মেয়েরও একই লক্ষ্য।
প্রবাসী বাংলাদেশীরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় দীর্ঘসময় অবস্থান করা খুবই কঠিন। বৈবাহিক, উচ্চ শিক্ষা, ব্যবসা ও ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া দীর্ঘ সময় থাকার সুযোগ নেই। অবৈধভাবে থাকলে শাস্তির মুখে পড়তেই হয়। সেখানে একজন বাংলাদেশী মিনহাজ মন্ডলের সাধারণ শ্রমিক থেকে সফল হয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়া যেসব প্রতিষ্ঠানে শত শত বাংলাদেশীর কর্মসংস্থান। এ যেন রীতিমত যুদ্ধ জয়। ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা দিচ্ছেন, মালয়েশিয়া থাকা লাখ লাখ প্রবাসীদের কাছে মিনহাজ মন্ডল হতে পারে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। মিনহাজ মন্ডল সফল হলে তো অন্যন্যা প্রবাসীরাও পারবেন। দুর্গম পথ অতিক্রম করে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কমিউনিটির মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তাকে অনুসরণ ও অনুকরণ করে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখ লাখ সাধারণ শ্রমিক তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে প্রবাসে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন।
তারা জানান, ইউরোপীয় সুযোগ সুবিধার মতো উন্নত জীবনযাপনে মালয়েশিয়ায় কে না চায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তাদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষত করে মানুষ করতে কিন্তু এই বিলাশী স্বপ্ন একমাত্র বিত্তশালী ছাড়া সাধারণ শ্রমিকের বেলায় দুঃস্বপ্ন। কঠোর পরিশ্রম করে যে কোনো অসাধ্যকে সাধ্য করা যায় এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মিনহাজ মন্ডল।
মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে সম্প্রতি গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করা মিনজাহ মন্ডলের মেয়ে মেহেরিন প্রীতি জানালেন, তার জম্ম মালয়েশিয়াতেই, এখানেই মালয়েশিয়ান পরিবেশে বেড়ে ওঠলেও তার পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি উচ্চ শিক্ষা নিয়ে একজন চিকিৎসক হয়ে প্রবাসীদের সেবায় নিয়োজিত হতে চান।
সরেজমিনে রাজধানী কুয়ালালামপুরের সেতাপাকে মিনহাজ মন্ডলের বাসভবনে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়িতে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। বাংলাদেশী প্রবাসীসহ বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গরা আসেন। মেহরিন পড়াশোনার পাশাপাশি তার মা পারুল বেগমকেও সাংসারিক সব কাজে সহযোগিতা করছেন। মেহেরিন মালয়েশিয়ায় জম্ম হলেও বাংলাদেশী সংস্কৃতি লালন করে প্রবাসীদের পাশে থাকবেন এমন কথাই তিনি জানালেন।



