অর্থমন্ত্রীকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট নবায়ন করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রবাসীদের। একটি পাসপোর্ট রিনিউ করতে পাঁচ থেকে ছয় মাস লাগছে। যথাসময়ে প্রবাসীরা পাসপোর্ট হাতে না পেয়ে অবৈধ হয়ে যাচ্ছেন প্রবাসীরা। এ বিষয়ে দূতাবাসসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ব্যবস্থার নেয়ার কথা বারবার অবহিত করলেও সমস্যা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

তারা আরো অভিযোগ করেন, প্রবাসীরা কোনো কারণে মালয়েশিয়ায় মারা গেলে তার লাশ স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠাতে দূতাবাসে বরাদ্দ না থাকায় প্রবাসীদের কাছে ভিক্ষা করে টাকা সংগ্রহ করে লাশ দেশে পাঠাতে হয়। নেতারা অনুরোধ করেছেন, প্রবাসীদের লাশ পাঠাতে সরকার যেন দূতাবাসে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখেন এবং জেলখানায় আটক প্রবাসীদের যেন দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

অর্থমন্ত্রীর কাছে সরাসরি অভিযোগ করে এক প্রবাসী বলেন, দূতাবাসে গেলে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। দূতাবাসের সেবা পেতে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এসব অভিযোগ শোনার পর অর্থমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট আপনাদের অধিকার। এটা আপনারা পাবেন। এর জন্য কাউকে ঘুষ দেবেন না। ঘুষদাতা ও গ্রহীতা দু’জনই জাহান্নামী। আপনারা কেউ ঘুষ নেবেন না এবং দেবেনও না।

এ সময় তিনি এগুলো সমাধানেরও আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

কুয়ালালামপুর ফাইভ স্টার হোটেল জি টাওয়ারে মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন আয়োজিত অর্থমন্ত্রীকে দেয়া সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থ মন্ত্রী।

সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি মকবুল হোসেন মুকুল ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অহিদুর রহমান অহিদ ও সাখাওয়াত হক জোসেফ।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি দাতু সেরী কামরুজ্জামান কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহ-সভাপতি দাতু সেরী জালাল উদ্দীন সেলিম, কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো: রফিকুল হোসেন। আরো বক্তব্য রাখেন, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ শত শত প্রবাসী।