চাহিদা বাড়ার কারণে দর্শনা কেরু চিনিকলসহ বেশ কয়েকটি চিনিকলের উৎপাদিত অবিক্রিত চিনি রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে বাজার থেকে। কেরু চিনিকল এলাকা চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও দামুড়হুদা বাজারে ৭৪ টাকার চিনি ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জনমনে প্রশ্ন দেখা গেছে, বাস্তবেই চিনি শেষ হয়ে গেছে নাকি অধিক মুনাফার আশায় কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা হয়েছে?
রোববার (২৩ অক্টোবর) থেকে কেরু চিনিকল এলাকা চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও দামুড়হুদা বাজারে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না।
কেরু চিনিকল এলাকার বড় চিনি ডিলার মো: আবদুল খালেক রোববার সাংবাদিকদের জানান, চিনির চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে চিনি শেষ হয়ে গেছে। কোথাও চিনি নেই। এমনকি দেশের সবচেয়ে বড় চিনিকল কেরুতেও চিনি নেই।
তিনি আরো জানান, চিনি শেষ হওয়ার পর কেরুতে চিনি তুলতে গেলে কর্তৃপক্ষ জানান, নাটোর চিনিকল থেকে চিনি আনতে হবে।
বাজার করতে আসা চা-দোকানি মসলেম মণ্ডল ও অপর এক ক্রেতা আব্দুল মালেক মিয়া জানান, শনিবার কেরু বাজারে সরকারি চিনিকলের উৎপাদিত এক কেজি চিনি ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রোববার থেকে তাও পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু কি কারণে দাম বাড়লো বা বাজার থেকে উধাও হয়ে গেলো, তা বোধগম্য নয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলার সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ জানান, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক বাজারে ৯৫ টাকা মূল্যে প্রতি কেজি চিনি বিক্রয় করতে হবে। কেউ এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা বাজার নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি।’
রোববার কেরু চিনিকলের ডি এম (বাণিজ্যিক) বদরুল আলম জানান, ‘মিল গেটে কেরুর খোলা চিনি কেজি ৭৪ টাকা ও প্যাকেট চিনি ৭৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি কেজি চিনি ৯৫ টাকায় বিক্রির নির্দেশ আমরা হাতে পায়নি। বর্তমানে ৪৬ দশমিক ৬০ মেট্রিকটন চিনি কেরুর গোডাউনে মজুদ রয়েছে। এটা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।’
দর্শনা কেরু চিনিকলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক জানান, বর্তমানে চিনির চাহিদা ব্যাপকহারে বেড়েছে। স্বল্প পরিমাণে আখ চাষ করে ওই চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। বেশি বেশি উন্নত জাতের আখ চাষ করে অধিক চিনি উৎপাদন সম্ভব।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপু জানান, ‘বর্তমানে ডলার সঙ্কটের কারণে এলসি খুলতে সমস্যা হচ্ছে। এজন্য চিনি আমদানি কমেছে বলে শুনেছি। তাছাড়া চিনি আমদানির বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। বর্তমানে করপোরেশনের অধীনে চিনির মজুদ কম।’
তবে আগামী মার্চ-এপ্রিলে সমাধান না হলে সঙ্কট বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।





