কৃষক অথবা সীমান্ত থেকে আড়ৎদার, আবার আড়ৎদার থেকে খুচরা বিক্রেতা-পথ যতো বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁজও ততো বাড়ছে। ভারত থেকে কেনা হচ্ছে ১২ টাকায়। সেই পেঁয়াজ সীমান্ত পার হয়ে এপাড়ে এসে হচ্ছে ২৫ টাকা। আর তা যখন সাধারণ ভোক্তা কিনছেন তখন তাকে গুণতে হচ্ছে ৬০ টাকা। আবার কৃষকের কাছ থেকে ৪৫ টাকায় দেশী পেঁয়াজ কিনে সেই পেঁয়াজ ক্রেতার কাছে পৌঁছছে ৮০ টাকায়। ভারত থেকে আমদানির পরেও এখনো নিয়ন্ত্রণ হয়নি পেঁয়াজের বাজার। টনকে টন ভারতীয় পেঁয়াজ বাংলাদেশে ঢুকলেও ঢাকার অনেক বাজারে এখনো আমদানিকৃত পেঁয়াজের দেখা মিলছে না। বেশী দামের জন্য দেশী পেঁয়াজ বিক্রি করছে দোকানীরা। আবার কোন কোন অসৎ ব্যবসায়ী দেশী পেঁয়াজের সাথে ভারতীয় পেঁয়াজ মিশিয়ে তা দেশী বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
বেনাপোলের রয়েল এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধীকারী রফিকুল ইসলাম রয়েল নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রতিটন পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করতে ১২০ ডলার এলসি করতে হচ্ছে। বাংলাদেশে আসার পর সেই পণ্যের এসেসমেন্ট হচ্ছে ৩২০ ডলারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এরপর প্রতিকেজি পেঁয়াজ আড়ৎদারদের হাতে পৌঁছছে প্রায় ২৫ টাকায়। আড়ৎদার সেই পেঁয়াজ বিক্রি করছে ৩৮ টাকায়। আর খুচরা বাজারে সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। বেনাপোল থেকে গতকালও ১২ ট্রাক পেঁয়াজ ঢুকেছে বাংলাদেশে।
টঙ্গী আড়ৎদার সমিতির সদস্য সবুজ হোসেন মাতুব্বর নয়া দিগন্তকে বলেন, আট থেকে ১০ দিন ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ আসছে। এতে সামান্য হলেও বাজারে প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, দেশীয় কৃষকদের লোভ অনেক বেশী। যে পেঁয়াজ কৃষকরা কেজি প্রতি ২৩ টাকায় বিক্রি করেছে, সেই পেঁয়াজ ৯০ থেকে ৯২ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এরপরেও তারা পেঁয়াজ বাজারে না ছেড়ে মজুত করে আরো টাকার জন্য। ভারত থেকে পেয়াঁজ আমদানি না হলে এখন হয়ত দেড়শ টাকার ওপরে প্রতি কেজি পেয়াঁজ কিনতে হতো।
তিনি আরো বলেন, গতকাল বৃহষ্পতিবার পাইকারী ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৩৮ টাকা কেজি। আর দেশীয় পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি।
এদিকে, পাইকারী বাজারের এই ৩৮ টাকার পেঁয়াজ ঢাকার বাজারে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়। আর দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে ৮০ টাকায়। ঢাকার কোনাপাড়া, ডেমরা, যাত্রাবাড়ি, মানিকনগর, গোপীবাগসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে এই দামে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা যায়।
রাজধানীর গোপীবাগ এলাকার শামসুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির পরেও এখনো ৮০ টাকায়ই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার এত ঢাকঢোল পেটালো; কিন্তু কাজের কাজ তো কিছুই হলো না!
তিনি আরো বলেন, বাজারে কোনো দোকানে তিনি ভারতের পেঁয়াজ খুঁজে পাননি। বাধ্য হয়ে ৮০ টাকা দিয়ে দেশী পেঁয়াজ কিনেছেন।
তিনি বলেন, অনেক দোকানে তিনি ঘুরেছেন কমদামে ভারতের পেঁয়াজ কেনার জন্য। কিন্তু দোকানীদের উত্তর ‘ওই পেয়াজ মিষ্টি লাগে। কেউ কিনতে চায় না।’
তবে শামসুল ইসলাম বলেন, এটা দোকানীদের কারসাজি। কমদামে পেঁয়াজ পেলে কেউ আর বেশী দামে দেশী পেয়াজ কিনতে চাইবে না। এ কারণে তারা ভারতীয় পেঁয়াজ দোকানে রাখছে না। আবার কোন কোন অসৎ দোকানী দেশী পেঁয়াজের সাথে ভারতীয় পেঁয়াজ মিশিয়ে ওই ৮০ টাকা কেজিতেই বিক্রি করছে। ক্রেতা প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।
সবুজ হোসেন মাতুব্বর বলেন, পাইকারী বাজারের সাথে খুচরা বাজারে দামেরতো এত ফারাক হওয়ার কথা না।
তিনি বলেন, পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য ঠিক আছে। কিন্তু এত তো পঁচার কথা না। যে ৫০ টাকার পেঁয়াজ ৮০ টাকা হবে, আর ৩৮ টাকার পেঁয়াজ ৬০ টাকা হবে! তিনি বলেন, এটা খুচরা বিক্রেতাদের ডাকাতি।
একাধিক ক্রেতা বলেছেন, বাজার মনিটরিং না থাকার কারণেই অসৎ ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ পাচ্ছে। তারা সিন্ডিকেট করে ক্রেতাদেরকে এখনো বেশী দামে পেয়াজ কিনতে বাধ্য করছে।





