ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ রুশ সেনা হতাহত হচ্ছে বলে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। রুশ সেনাদের ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তা করার জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনা পাঠানো হচ্ছে- এমন খবরের মধ্যে সোমবার হোয়াইট হাউজে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। জন কিরবি সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সার্বভৌম রাষ্ট্র ইউক্রেনে অন্যায়ভাবে সেনা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এই লড়াইয়ে অসংখ্য সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া।
এ কারণে অনেক ভাড়াটে সেনা নিয়োগ দিচ্ছে রাশিয়া। ফলে পুতিন বিশ্ব মঞ্চ থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। দক্ষিণ কোরিয়া গত সপ্তাহে দাবি করেছে যে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মস্কোর হয়ে যুদ্ধ করতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় দেড় হাজার সেনা পাঠিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস বলেছে, পিয়ংইয়ং রাশিয়ায় মোট ১০ হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
তবে, পিয়ংইয়ং এখনো সিউলের দাবি অস্বীকার বা নিশ্চিত করেনি। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার এ দাবির বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয়। কিয়েভে এর আগে সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে আরো ৪০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রদান করবে। হোয়াইট হাউজের তথ্য অনুসারে, এর মধ্যে ১৫৫ মিলিমিটার আর্টিলারির গোলাবারুদ, ১০৫ মিলিমিটার ট্যাংক গোলাবারুদ, হিমার্সের গোলাবারুদ ও জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাংক সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইউক্রেনকে ঋণ দিচ্ছে ব্রিটেন
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জব্দকৃত সম্পদের সহায়তায় ইউক্রেনকে ২৯৪ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে ব্রিটেন। অস্ত্র ক্রয় ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনঃনির্মাণের জন্য শিল্পোন্নত দেশের সংগঠন জি সেভেনের বৃহত্তর ঋণ প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ দেয়া হবে। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হেইলি বলেছেন, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য মূলত এই সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তবে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি পথ অতিক্রমে সক্ষম ড্রোনের উন্নতিসাধনেও এই অর্থ ব্যবহৃত হতে পারে।
লন্ডনে দু’সপ্তাহ আগে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাথে বৈঠক করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আলোচনায় জি সেভেন ঋণ প্রকল্পে ব্রিটেনের হিস্যার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন হেইলি। এ ছাড়া ইতালিতে অনুষ্ঠিত জি সেভেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সম্মেলনেও এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রাশিয়ার গভীরে হামলা করতে সক্ষম ব্রিটিশ ক্ষেপণাস্ত্র ‘স্টর্ম শ্যাডো’ কেনার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার করতে ইউক্রেনকে অনুমতি দেয়া হবে কিনা, এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি হেইলি।
বরং সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘আরো বেশি পথ অতিক্রমে সক্ষম দূরপাল্লার ড্রোন তৈরির দক্ষতা দ্রুত অর্জন করছে তারা (ইউক্রেন)। বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় কিভাবে খরচ হবে ও কোন অস্ত্র তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সে ব্যাপারে আমরা একসাথে কাজ করব।’ গত জুনে ইউক্রেনকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ঋণসহায়তার ঘোষণা দেয় জি সেভেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমে ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যমানের রুশ সার্বভৌম সম্পদ জব্দ করা হয়। এই সম্পদের লভ্যাংশ থেকে ইউক্রেনকে ঋণ পরিষেবা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
অর্থ আটকে রেখে সেটা দিয়ে আবার ইউক্রেনকে সহায়তা করাকে সম্পূর্ণ অবৈধ পদক্ষেপ বলে বিবৃতি দিয়েছে ক্রেমলিন। রাশিয়ায় হামলা করতে তাদেরই জব্দকৃত সম্পদ দিয়ে ইউক্রেনকে অর্থায়নের ফল ভালো হবে না বলেও হুমকি দিয়েছে তারা। ৫ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচন নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় আছে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা। রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতে গেলে কিয়েভের সহায়তার রাশ টেনে ধরতে পারেন তিনি। ফলে জি সেভেনের ঋণ সহায়তা নিয়ে সবাই বেশ তড়িঘড়ি আলোচনা সম্পন্ন করতে চাইছেন।
রাশিয়ার জব্দকৃত অর্থের বেশির ভাগই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কব্জায় রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইউক্রেনের সমর্থনে ১ হাজার ৬৬১ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা প্রতিশ্রুতি আগেই দিয়েছে ব্রিটেন। তার ওপর এখন জি সেভেনের প্রকল্পের মাধ্যমেও এই বাড়তি অনুদান দিচ্ছে লন্ডন। দেশটির অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস বলেছেন, এটি এককালীন ঋণ। ধাপে ধাপে ঋণের অর্থ ছাড় করা হবে।
ইউক্রেনে দৈনিক ১২০০ সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া
ইউক্রেনকে ২৯৪ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে ব্রিটেন
ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ রুশ সেনা হতাহত হচ্ছে বলে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। রুশ সেনাদের ইউক্রেন যুদ্ধে...



