পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা তিন দিন ধরে চলা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) বিক্ষোভ কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ডি-চকে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক ধরপাকড়ের পর, দলের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে। ধরপাকড়ের সময় দলটির সিনিয়র নেতাদেরও সমাবেশস্থল ছেড়ে চলে যেতে দেখা গেছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ও তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, পিটিআইয়ের বিক্ষোভকারীরা মঙ্গলবার ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে খাইবার-পাখতুনখাওয়ার (কে-পি) দিকে পালিয়ে যায় তারা।
দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেপির মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গন্ডাপুর ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি কে-পি পৌঁছেছেন। নকভি বলেন, ‘আইনপ্রয়োগকারী কর্মীরা এলাকাটি পরিষ্কার করেছে এবং বিক্ষোভ বন্ধ হয়েছে।’
মঙ্গলবার কারাবন্দী পিটিআই নেতা ইমরান খানের মুক্তির জন্য ‘চূড়ান্ত আহ্বান’-এর তৃতীয় দিনের মতো ডি-চকে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। তারা কনটেইনার দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেন। এ সময় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এদিন গভীর রাতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়ে পিটিআইয়ের ৪৫০ জনেরও বেশি কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তীব্র গোলাগুলির মধ্যে বুশরা বিবিও গন্ডাপুর সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন।
বিক্ষোভ বাতিলের নেপথ্যে :
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ এবং সংবিধানের ২৬তম সংশোধনী বাতিলের দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদে জড়ো হয়েছিলেন পিটিআইয়ের কয়েক লাখ নেতাকর্মী। তারা অবস্থান নিয়েছিলেন রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ডি-চকে। তবে গতকাল বুধবার ভোরে হঠাৎ করে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কর্মীদের বাড়িতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন পিটিআইয়ের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা আলী আমিন গান্দাপুর। এছাড়া ওই সময় সেখান থেকে সরে যান ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবিও।
যদিও তিনি গতকাল বলেছিলেন, ইমরান খানকে মুক্ত না করে তিনি বাড়ি ফিরবেন না। তবে হঠাৎ কেন তারা সেখান থেকে সরে গেলেন? বুধবার সকালে পিটিআই তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে কারণ উল্লেখ করে দলটি বলেছে, ‘সরকারের নৃশংসতা এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে ইসলামাবাদকে একটি কসাইখানায় পরিণত করার পরিকল্পনার কারণে আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করেছি।’
দলটি আরো জানিয়েছে, কারাগারে বন্দী প্রধান নেতা ইমরান খানের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে ইসলামাবাদের ডি-চকে ইমরান খানের কর্মী -সমর্থকদের লক্ষ্য করে বিপুল কাঁদানে গ্যাস ছোড়া শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্যাসের তীব্রতার কারণে ওই সময় সেখান থেকে বিক্ষোভকারীরা সরে যেতে বাধ্য হন। পিটিআই দাবি করেছে, রাতের বেলা ডি-চকে অভিযানের নামে সন্ত্রাসী হামলা ও নৃশংসতা চালিয়েছে সরকার।
ইসলামাবাদে পিটিআইয়ের বিক্ষোভ কর্মসূচি বাতিল
সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা ও নৃশংসতার অভিযোগ পিটিআইয়ের
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা তিন দিন ধরে চলা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) বিক্ষোভ কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ডি-চকে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক ধরপাকড়ের পর, দলের পক্ষ...



