গাজা ও পশ্চিমতীরকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র চায় নরওয়ে। এই সমন্বিত রাষ্ট্রে জেরুসালেমের একটি নির্দিষ্ট অংশও থাকবে। গত শনিবার নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসপেন বার্থ আইদে। কাতারের রাজধানী দোহায় ২২তম ‘কনফ্লিক্ট মেডিয়েশন ইন আ নিউ এরায়’ অংশ নেন নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া এই সম্মেলনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে আইদে বলেন, ‘আমরা একটি সমন্বিত ফিলিস্তিন চাই, যার মধ্যে থাকবে পশ্চিমতীর, গাজা এবং জেরুজালেমের প্রাসঙ্গিক অংশ।’
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এই অঞ্চলের এখনকার বার্তা হচ্ছে যে, এটি একদম সম্ভব। হয়তো এক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হবে, কিন্তু সেটি ফিলিস্তিনের সাথে হওয়া উচিত। এটি একক কোনো সংঘর্ষ নয়, তবে এর মধ্যে একটি মূল সংঘর্ষ রয়েছে, যা হলো ফিলিস্তিন প্রশ্নের সমাধান না হওয়া।’ দোহায় চলমান দু’দিনব্যাপী এই ফোরামের থিম হলো ‘উদ্ভাবনের অবশ্যম্ভাবিতা’। সরকারি অনুমান অনুযায়ী, দেড় শতাধিক দেশ থেকে চার হাজার ৫০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী এতে যোগ দিয়েছেন। যার মধ্যে সাতজন বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট, সাতজন প্রধানমন্ত্রী এবং ১৫ জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রয়েছেন।
ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং বন্দিবিনিময় চুক্তি করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মিসর এবং কাতারের নেতৃত্বে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। মূলত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গায়ের জোরে যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মনোভাব দেখানোর কারণেই এমনটা হয়েছে। গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি গণহত্যার ফলে গত বছরের ৭ অক্টোবর এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
এ দিকে গত মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। ইসরাইল গাজায় তার কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি।