রাশিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ শিথিল করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপের দেশগুলোর জোটটি এ বিষয়ক নির্দেশনায় রাশিয়ার কয়লার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার কথা জানিয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ইইউ জানিয়েছে, তারা এখন থেকে আর তৃতীয় কোনো দেশে কয়লার চালান রোধ করবে না।
আগের নির্দেশনা অনুসারে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো রাশিয়া থেকে ইইউর বাইরের কোনো দেশে কয়লা রফতানিতে অংশ নিতে পারত না। বুধবারের নির্দেশনায় ইইউ নিশ্চিত করেছে, এখন থেকে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রাশিয়া থেকে অন্য দেশে কয়লা রফতানি করতে পারবে। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানগুলো ইইউর যাবতীয় আর্থিক ও বীমা সুবিধা পাবে।
তবে নতুন এ নির্দেশনা কেবল কয়লা খাতেই কার্যকর হবে। এটি কোনোভাবেই রাশিয়ার খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা খাতে প্রযোজ্য হবে না। অবশ্য আগে থেকেই রাশিয়া থেকে অন্য দেশে সার, পশু খাদ্য, কাঠ, সিমেন্টসহ বেশ কিছু পণ্য রফতানিতে কোনো বাধা ছিল না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত এপ্রিল মাসে তাদের নিষেধাজ্ঞার পঞ্চম প্যাকেজে রাশিয়া থেকে কয়লা ক্রয়, আমদানি বা বিতরণ নিষিদ্ধ করে। আগস্ট থেকে এ নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ কার্যকর হয়।
সবচেয়ে বড় বন্দিবিনিময় রাশিয়া-ইউক্রেনের
এদিকে আলজাজিরা জানায়, যুদ্ধের সাত মাসে সবচেয়ে বড় বন্দিবিনিময়ের ঘটনা ঘটল রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। দুই দেশের ৩০০ বন্দিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং মরক্কোর নাগরিক রয়েছে। তারা ইউক্রেনে বন্দী হয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভাড়া খাটার অভিযোগ এবং মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। রাশিয়া ২১৫ জন ইউক্রেনীয় বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে, যার মধ্যে পাঁচজন কমান্ডার রয়েছেন।
বিনিময়ে ৫৫ জন রুশ নাগরিক এবং মস্কোপন্থী ইউক্রেনীয় ভিক্টর মেদভেদচুককে ফেরত পাঠিয়েছে কিয়েভ। মেদভেদচুক একটি নিষিদ্ধ রুশপন্থী দলের নেতা এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের মুখোমুখি। বন্দিবিনিময়ের এই চুক্তিতে সহায়তা করেছে সৌদি আরব এবং তুরস্ক। সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের রাষ্ট্র এবং সমাজের জন্য একটি বিজয়। ২১৫টি পরিবার তাদের ভালোবাসার প্রিয় মানুষগুলোকে দেখতে পাবে। নিখোঁজ অথবা প্রাণ হারানো প্রত্যেক ইউক্রেনীয় নাগরিককে আমরা স্মরণ করি। সবাই বাঁচানোর চেষ্টা করছি।’ এক বিবৃতিতে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১০ জন বিদেশী বন্দী মুক্তি পেয়েছে। সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যস্থতায় তাদের মুক্ত করা গেছে। রাশিয়া থেকে একটি বিমানে করে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে পাঁচজন ব্রিটেনের নাগরিক, দুইজন আমেরিকান, একজন ক্রোয়েশিয়ার, মরস্কোর এবং একজন সুইডেনের। পরে তারা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার কয়লার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল ইইউর
রাশিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ শিথিল করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপের দেশগুলোর জোটটি এ বিষয়ক নির্দেশনায় রাশিয়ার কয়লার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার...



