রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোসহ বেশ কিছু অঞ্চলে গতকাল বুধবার থেকে পরীক্ষামূলক ইসলামী অর্থনৈতিক প্রকল্প শুরু হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতে ইসলামী অনুশীলন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এসব পাইলট প্রকল্প শুরু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়া জানায়, প্রাথমিকভাবে দাগেস্তান, বাশখেরিয়া ও তাতারস্তানে পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রম চলবে। এর মেয়াদ হবে দুই বছর। পরবর্তী সময়ে এর সফলতার ওপর নির্ভর করে রাশিয়ার জন্য উপযুক্ত একটি ইসলামিক মডেলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে কর্তৃপক্ষ।
‘দ্য রাশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সপার্ট ইন ইসলামিক ফাইন্যান্স’-এর সিনিয়র বিশেষজ্ঞ আলেকজেন্ডার কাজাকভ বলেন, পশ্চিমা অর্থনৈতিক বাজার ভুলে যাওয়ার সময় এসেছে। এখন সময় আরব ও এশিয়ান দেশগুলোর সাথে সহযোগিতার সম্পর্ক দৃঢ় করার দিকে মনোযোগ দেয়ার।
তিনি আরো বলেন, ইউক্রেনের সাথে সঙ্ঘাতের জেরে রাশিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের সেন্টারগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বাণিজ্য সচল রাখতে আমাদের সামনে অন্য কোনো সহজলভ্য বিকল্প অনুসন্ধান করতেই হতো। এখন আমাদেরকে ওয়াশিংটন, লন্ডনের অস্তিত্ব ভুলে যেতে হবে। বরং এখন আমাদের বেইজিং, নয়াদিল্লি, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি মনোযোগ দেয়ার সময় এসেছে।
জানা গেছে, স্টেট দুমা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার আগে ‘অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগের’ বিষয়টি অনুমোদন করেছে, যা ইসলামী অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী নীতিমালার ভিত্তিতে বিনিয়োগ বিষয়টি বোঝাতে এই ‘অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগের’ বিষয়টি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ইসলামী অর্থনীতি কি পশ্চিমা অর্থনীতির বিকল্প হয়ে উঠতে পারবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে আলেকজেন্ডার কাজাকভ বলেন, এ ব্যাপারে আমরা অপেক্ষা করব ও দেখব।