হিনডেনবার্গ রিসার্চের রিপোর্ট প্রকাশের এক মাসের মাথায় আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের টানা দরপতনের ফলে ওই গোষ্ঠীর বাজার মূলধনের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে সাত লাখ ২০ হাজার ৬৩২ কোটি রুপিতে। রিপোর্ট প্রকাশের আগে আদানি গোষ্ঠীর তালিকাভুক্ত ১০টি কোম্পানির মোট বাজার মূলধন ছিল ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৮৮ কোটি রুপি। অর্থাৎ ২৪ জানুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি শেয়ার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত আদানি গোষ্ঠীর ক্ষতির পরিমাণ ১১ লাখ ৯৯ হাজার ২৫৬ কোটি রুপি।
হিনডেনবার্গ রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার আগে ভারতের গুজরাট রাজ্যের ৬০ বছরের শিল্পপতি গৌতম আদানি ছিলেন পৃথিবীর দ্বিতীয় ধনকুবের। এক মাসের মধ্যে আজ তিনি সেরা ধনকুবেরদের তালিকার ২৯তম স্থানে নেমে গিয়েছেন। এ দিকে আদানিগোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি এবার সেই হিন্ডেনবার্গের বিরুদ্ধে লড়াইকে আইনের আঙিনায় নিয়ে আসতে চলেছেন। সেজন্য বিশ্বের সবচেয়ে দামি আইনি পরামর্শদাতা সংস্থা নিউ ইয়র্কের ‘ওয়াচটেল, লিপ্টন, রোজেন অ্যান্ড কাটজ’কে নিয়োগ করেছেন।
উল্লেখ্য, মার্কিন শর্ট-সেলার হিনডেনবার্গ রিসার্চ গত ২৪ জানুয়ারি এক প্রতিবেদনে আদানিকে জালিয়াতির জন্য অভিযুক্ত করে। এর পর থেকে আদানির শেয়ারদরে ধস নামে।
আদানি ইস্যুতে সংবাদ প্রকাশ না করার আবেদন খারিজ
আদানি-হিন্ডেনবার্গ ইস্যু নিয়ে গণমাধ্যমে কোনো সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না বা ছাপানো যাবে না। এমন দাবিতে পিটিশন বা আবেদন দায়ের করা হয়েছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্টে। গট শুক্রবার সেই মামলা খারিজ করে দেয় দেশটির শীর্ষ আদালত। এ বিষয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করার পক্ষে কখনই রায় দেয়া যায় না।
এম এল শর্মা নামে এক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলা দায়ের করেন। তার পিটিশনে বলা হয়, এখনো শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে আদানি-হিন্ডেনবার্গ মামলা। কয়েক দিন পরই রায় জানাবে সুপ্রিম কোর্ট। যত দিন পর্যন্ত না এই রায় প্রকাশিত হচ্ছে, তত দিন কোনো সংবাদ সংস্থা যেন আদানি-সংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ না করেন। কারণ এ বিষয়টি নিয়ে অযথা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের এজলাসে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। প্রধান বিচারপতি এ সময় বলেন, ‘মিডিয়ার কাজে বাধা দেয়ার জন্য অন্য কোনো অভিযোগ দায়ের করুন। এভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যায় না। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট কখনই এমন কাজ করতে পারে না।’ শুক্রবারই ওই পিটিশন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত।
সেই সাথে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট আরো জানিয়ে দেয়, কয়েক দিনের মধ্যেই আদানি-হিন্ডেনবার্গ মামলার রায় প্রকাশ করা হবে। উল্লেখ্য, আদানি গোষ্ঠীর সম্পত্তিসংক্রান্ত হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই হু হু করে গৌতম আদানির সম্পত্তির পরিমাণ কমছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছেন, এখন তার সম্পত্তির পরিমাণ চার হাজার ২০০ কোটি ডলার। একই সময়ে ভারতের আরেক ধনকুবের মুকেশ আম্বানির সম্পত্তির পরিমাণ আদানির প্রায় দ্বিগুণ।



