মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান সঙ্কট তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করতে পারে। তিনি চলমান সঙ্ঘাতের নেপথ্য কারণ হিসেবে ইউরোপীয়দের যুদ্ধের প্রতি মনোভাব, আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টাকে দায়ী করেছেন। গত শুক্রবার এক টুইট বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাহাথির বলেন, জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা পশ্চিম ইউরোপের মিত্র ছিল। তবে জার্মানি যে মুহূর্তে পরাজিত হয়, পশ্চিমারা সে মুহূর্তেই রাশিয়াকে তাদের নতুন শত্রু হিসেবে ঘোষণা করে। এর পরপরই পশ্চিমারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সামরিক জোট ন্যাটো গঠন করে।
এর জবাবে সেই সময়ে রাশিয়া ওয়ারশ চুক্তি সই করে এবং একটি স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। বিশ্বও তখন বিভক্ত হয়ে পড়ে। তারা পূর্ব বা পশ্চিম যেকোনো একটি ব্লক বেছে নিতে বাধ্য হয়। পরবর্তী সময়ে রাশিয়া ওয়ারশ চুক্তি বাতিল এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশগুলোকে ব্লক ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনুমতি দেয়। কিন্তু তার পরও ন্যাটো ভেঙে দেয়া হয়নি। সেটি আগের মতোই বহাল থাকে। বরং সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে মুক্ত দেশগুলোকে রাশিয়ার শত্রু হিসেবে ন্যাটোতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়। দুর্বল রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ আরো বাড়াতে এসব কাজ করেছিল পশ্চিমা ব্লক।


পরবর্তী সময়ে কিছু দেশ ন্যাটোতে যোগ দেয় এবং রাশিয়ার ওপর হুমকি আরো বাড়তে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া তার সামরিক ক্ষমতা বাড়ায় এবং শক্তিশালী পশ্চিমা জোটের মুখোমুখি হয়। পরে দিনকে দিন সেই উত্তেজনা কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এটিই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হিসেবে কাজ করতে পারে। মাহাথির বলেন, এখন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। আর রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞার জেরে বিশ্ব এরই মধ্যে সরবরাহের ঘাটতিতে পড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে এগুলোর নেপথ্য নায়ক হিসেবে উল্লেখ করে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তাইওয়ানে একজন মার্কিন কর্মকর্তার সফরের কারণে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্ত্রের সমাগম বেড়েছে। এরই ফাঁকে তাইওয়ানের কাছে প্রচুর অস্ত্র বিক্রি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিণতিতে চীন আরো বেশি সতর্ক হয়েছে, সামরিক মহড়া চালিয়েছে এবং অস্ত্র মোতায়েন করেছে।
এ দিকে স্ট্রেইটস টাইমস ও মালয় মেইলের খবর অনুসারে, ফের দল বদল করলেন আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। এবার তুলনামূলক কম পরিচিত পার্টি ‘বুমিপুতেরা পারকাসা মালয়েশিয়া’ তথা পুত্রা নামের দলে যোগ দিয়েছেন ৯৭ বছর বয়সী এই নেতা। মাহাথিরের প্রতিষ্ঠিত পার্টি পেজুয়াং তানাহ এয়ারের সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরমিন বানিয়ান পাহামিন সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, মাহাথির মোহাম্মদসহ আরো ১৩ জন পেজুয়াং সদস্য পুত্রায় যোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে আরমিন বানিয়ান বলেন, ‘সফল হওয়ার জন্য আমাদের মিশন ও লক্ষ্য স্পষ্ট হতে হবে। আমাদের মূল লড়াই মালয়েশিয়ার জনগণ, দল ও সংগঠনের ঐক্যের জন্য।’ নতুন দলে মাহাথির কোনো পদে থাকবেন কি না সে বিষয়ে এখনো জানা যায়নি। মাহাথির গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, পুত্রা দলের প্রধানের কাছ থেকে সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এরপর তিনি পুত্রায় যোগদানের কথা বিবেচনা করছেন।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এ আমন্ত্রণ গ্রহণ না করার কোনো কারণ দেখি না। কিন্তু আমি প্রস্তাবটি বিবেচনা করার জন্য সময় নিচ্ছি। পুত্রায় যোগদানের প্রস্তাব আমার রাজনৈতিক সংগ্রামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদি দলটিকে আমার জন্য উপযুক্ত মনে করি, তাহলে আমি সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করব। যদি তারা আমাকে উপদেষ্টা হিসেবে চায়, তাহলে আমি সেটাও হতে পারি।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ২০২০ সালে তার প্রতিষ্ঠিত দল পেজুয়াং ত্যাগের ঘোষণা দেন। এর আগে দেশটিতে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ১৫তম সাধারণ নির্বাচনের আগে পেজুয়াংয়ের নেতৃত্বে গেরাকান তানাহ এয়ার (জিটিএ) জোট গড়েছিলেন।