তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনকে বলেছেন, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই উত্তর সিরিয়ায় পিকেকে বা ওয়াইপিজি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে কাজ করা বন্ধ করতে হবে। এক টেলিফোনালাপে দুই কূটনীতিকের মধ্যে অন্যান্য ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবারের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ফোনালাপে ফিদান জোর দিয়ে বলেছেন যে, তুরস্ক ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে।
তবে তুরস্কের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ইরাক ও সিরিয়ায় তুর্কি ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে যাতে বিরোধ তৈরি না হয়; সে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেছেন ফিদান ও ব্লিঙ্কেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি সিরিয়ায় তুরস্কের একটি মনুষ্যবিহীন যুদ্ধযান ভূপাতিত করার পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। উত্তর সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটির আশপাশে অভিযান চালাতে গেলে যুদ্ধযানটি ভূপাতিত করে আমেরিকান সেনারা। তুরস্ক প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে ড্রোন ভূপাতিত করার কথা স্বীকার করেছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনালাপে উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত হয়েছেন যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাধা না দিয়ে কার্যকর অভিযান চালিয়ে যেতে হবে। তবে তুরস্কের অভিযানে যাতে মার্কিন বাহিনীর কোনো অসুবিধা সৃষ্টি না হয়। বৈঠকে সামরিক জোট ন্যাটো সম্প্রসারণের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি তুরস্কের সমর্থন দেয়ার পর জোটটির সদস্য হয়েছে ফিনল্যান্ড।

সিরিয়ায় নিহত ২৬ :
তুরস্কের বিমানবাহিনীর অভিযানে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবারের ওই অভিযানে উত্তর সিরিয়ার একটি তেলের কূপ ও সংরক্ষণাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অবশ্য সরাসরি ‘নিহত’ উল্লেখ না করে ‘নিষ্ক্রিয়’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। গত ১ অক্টোবর, রোববার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা দু’টি আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়, এতে আহত হন দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা। তুরস্কের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে জানা গেছে, রোববারের হামলাটি ঘটিয়েছে আসলে ওয়াইপিজি নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। এক সময় ওয়াইপিজি একটি পৃথক রাজনৈতিক গোষ্ঠী থাকলেও বর্তমানে এর একটি অংশ পিকেকের অঙ্গসংগঠনে পরিণত হয়েছে। অপর অংশটি আবার যুক্তরাষ্ট্রের মদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী তুর্কি স্পেশাল ডেমেক্র্যাটিক ফোর্সের (তুর্কি এসডিএফ) অঙ্গসংগঠন। এসডিএফের প্রধান মিশন হলো সিরিয়ায় সক্রিয় আইএস জঙ্গিদের দমন করা।