গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য ক্রমবর্ধমান আহ্বানে ৭০টির মতো মার্কিন শহর সাড়া দিয়েছে। শিকাগো ও সিয়াটেলের মতো প্রধান সিটি কাউন্সিলগুলোর বেশির ভাগই ইসরাইল-গাজা যুদ্ধে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব পাস করেছে। এর ফলে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপর আরো চাপ সৃষ্টি হবে। কমপক্ষে ৪৮টি শহর ইসরাইলের বোমাবর্ষণ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রতীকী প্রস্তাব পাস করেছে। অন্য ছয়টি শহর শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাব পাস করেছে।

রয়টার্সের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ইসরাইলে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার ফলে বর্তমান যুদ্ধের সূত্রপাত করেছে বলে নিন্দা প্রস্তাব পাস করেছে ২০টি শহর। বেশির ভাগ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ক্যালিফোর্নিয়ার মতো গণতান্ত্রিক রাজ্যে পাস হয়েছে। যদিও মিশিগানের মতো দোদুল্যমান রাজ্যে কমপক্ষে ১৪টি প্রস্তাব পাস হয়েছে যা রিপাবলিকান সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বাইডেনের পুনঃনির্বাচনের ক্ষেত্রে দৃশ্যপট পরিবর্তন হতে পারে।
যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাইডেনের প্রশাসন। তারা যুক্তি দেখাচ্ছে যে ইসরাইলি হামলা থামলে হামাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

ডেট্রয়েট কাউন্সিলের সদস্য গ্যাব্রিয়েলা সান্তিয়েগো-রোমেরো যিনি নভেম্বরে মিশিগানে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাস করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তিনি বলেন, বিশেষত বাইডেন ও অন্যান্য জাতীয় গণতান্ত্রিক দলের নেতাদের প্রতি তরুণ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বর্ণের লোকদের হতাশার প্রতিফলন এটি। আমরা এমন নেতৃত্ব চাই যে আমাদের কথা শুনতে ইচ্ছুক। তিনি আরো বলেন, ডেমোক্র্যাটদের উচিত তরুণদের কথা শোনা। গত বুধবার শিকাগোতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানোর ভোটে মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ২৩টি পূর্ণাঙ্গ ভোট পেয়ে প্রস্তাব পাস করেন।

রয়টার্স ৭০টি শহর থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে যারা ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইল-গাজা প্রস্তাব পাস করেছে। সেগুলো সান ফ্রান্সিসকোর মতো বড় শহর থেকে শুরু করে ছোট শহর যেমন কারবোরো, নর্থ ক্যারোলিনা এবং বাইডেনের শহর উইলমিংটন, ডেলাওয়্যার পর্যন্ত রয়েছে। অনেক যুদ্ধবিরতি আহ্বান মিসৌরি কংগ্রেসওম্যান কোরি বুশের ‘যুদ্ধবিরতি এখনি’ প্রস্তাবের অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে যা বন্দীদের মুক্তি এবং গাজায় সহায়তা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানায়। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী ইসরাইলি বোমা হামলায় ২৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।