কানাডায় নতুন করে অচিহ্নিত কবরে আরো ১৮২ জন মানুষের দেহাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির একটি আদিবাসী সংগঠন তাদের বিবৃতিতে এ সংবাদ জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ কবরগুলো পূর্বেকার এক ক্যাথলিক চার্চ নিয়ন্ত্রিত আবাসিক স্কুলের কাছে পাওয়া গেছে। এ আবাসিক স্কুলগুলোতে উপজাতীয় শিশুরা থাকত। এসব উপজাতীয় শিশুদের তাদের পরিবার থেকে জোর করে নিয়ে আসা হতো।
সাম্প্রতিক সময়ে যে কবরগুলো পাওয়া গেছে তা ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ক্রানব্রুকের কাছে অবস্থিত।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একই ধরনের কবরের অনুসন্ধান পাওয়া গেছে আরো দু’টি ক্যাথলিক চার্চ নিয়ন্ত্রিত আবাসিক স্কুলের কাছে। একটিতে ৭৫০ অচিহ্নিত কবর আর আরেকটিতে ২১৫ অচিহ্নিত কবর রয়েছে। ভ্যানকুভারের ৫২৪ মাইল বা ৮৪৩ কিমি দূরে ক্রানব্রুক অবস্থিত।
দ্যা লয়ার কোটার্নি উপজাতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, কবর খোঁজার ক্ষেত্রে তারা গত বছর থেকে এ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তারা সেন্ট ইগুইনি নামের সাবেক মিশন স্কুলে এ অনুসন্ধান চালায়। এ স্কুলটি ১৯২১ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ক্যাথলিক চার্চের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। ওই আদিবাসী গোষ্ঠীর লোকেরা দাবি করেছেন যে এ অচিহ্নিত কবরগুলো তিন মিটার গভীরে অবস্থিত।
এটা বিশ্বাস করা হচ্ছে যে, এ দেহাবশেষগুলো দ্যা লয়ার কোটার্নি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত কেটুনাক্সা জাতির। তারা কানাডায় প্রথম আসা জাতিগুলোর অন্যতম।
দ্যা লয়ার কোটার্নি আদিবাসী গোষ্ঠীর প্রধান জ্যাসন লুইস বলেন, এ অনুসন্ধান করার কাজটি ছিল ব্যক্তিগত। যেহেতু তার আত্মীয়রা এ স্কুলে ভর্তি হয়েছিল।
জ্যাসন লুইস সিবিসি রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এ দেহাবশেষ পাওয়ার ঘটনাকে আমরা কি নামে অভিহিত করতে পারি, আমাদেরকে এ সম্পর্কে বলেন। এটা মূলত কানাডার আদিবাসীদের গণহত্যার ঘটনা।
তিনি আরো বলেন, জার্মানির নাজিরা যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত হয়েছিল। আমি এখানে নাজিদের সাথে গির্জা কর্তৃপক্ষের কোনো পার্থক্য দেখি না, যেখানে গির্জার পুরোহিত, সিস্টার ও ব্রাদাররা এ গণহত্যা চালিয়েছেন। তারা কানাডার আদিবাসীদের গণহত্যার ঘটনায় জড়িত।
১৯৭০ সাল পর্যন্ত কানাডার এক লাখ ৫০ হাজার আদিবাসী শিশুকে জোর করে রাষ্ট্রীয় তহবিলে পরিচারিত আবাসিক স্কুলগুলোতে ভর্তি করা হতো, যাতে করে এসব শিশু কানাডার পশ্চিমা সমাজের মধ্যে মিশে যায়। এ সকল শিশুদের মধ্যে কয়েক হাজার শিশু বিভিন্ন রোগ ও অন্যান্য কারণে মারা গেছে। অনেক শিশু আর কখনো তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেনি। ওই সময়ে কানাডায় ১৩০টির মতো খ্রিস্টান চার্চ পরিচালিত স্কুল ছিল।
এসব স্কুলগুলোতে শিশুদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের বহু ঘটনা ঘটেছে। এই শিশুরা তাদের মাতৃভাষায় কথা বলার কারণে মারধরেরও শিকার হতো।
সূত্র : ডেইলি সাবাহ






