মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো জোর দিয়ে বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার পরামাণু অস্ত্রধারী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করার পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দুটির সংঘাত নিরসন হয়েছে। তিনি দুই দেশকে যুদ্ধের পরিবর্তে বাণিজ্যের ওপর মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের অংশগ্রহণে ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাণিজ্যের মাধ্যমেই আমি ভারত-পাকিস্তানের সংঘাতের বিষয়টা মিটিয়ে ফেলেছি। আমার মনে হয় বাণিজ্যই সবচেয়ে বড় কারণ ছিল। এভাবেই আমি এতে যুক্ত হয়েছিলাম।’
শীর্ষ সম্মেলনটি আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে শেষ হয়। সেখানেও ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য বলে প্রশংসা করা হয়। এই পুরস্কারের ব্যাপারে ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে আগ্রহী।
গত মে মাসে ট্রাম্প পাকিস্তান ও ভারতের নেতাদের সাথে তার ফোনালাপের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, আমি এমন দেশগুলোর সাথে কাজ করতে চাই না, যারা নিজেদের এবং হয়তো বিশ্বকেও ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। তারা পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।’
তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সমাধান ‘একটি বড় সাফল্য’। কারণ এটি খুব দ্রুত পারমাণবিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারত।
গত মে মাসে চার দিনের পারস্পরিক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান হামলায় কমপক্ষে ৬০ জন নিহত এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। প্রায় তিন দশকের মধ্যে এটিই ছিল ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত।
ট্রাম্প বারবার তার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে পাকিস্তান ও ভারতকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর জন্য দুই দেশের নেতাদের প্রশংসা করেছেন। কিন্তু ভারত ট্রাম্পের ভূমিকা অস্বীকার করেছে। পাকিস্তান অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কৃতিত্ব দিয়ে তাকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির সংসদে বলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্পের কোনো ভূমিকা ছিল না।
সূত্র : টিআরটি গ্লোবাল






