আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না বলে আশঙ্কা করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধীদলীয় নেতারা। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত আছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ২০১৮ সাল নির্বাচনী বছর হলেও চলতি বছরের প্রায় প্রথম থেকেই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি রেখেছেন।
মালদ্বীপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ২০১২ সালে পুলিশ বিদ্রোহে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ক্ষমতায় আসেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন; কিন্তু ভ্রমণের জন্য সারা বিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর হয়নি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চার লাখ জনসংখ্যার এই দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হলে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সঙ্কট শুরু হয়। মোহাম্মদ নাশিদসহ নয়জন বিরোধীদলীয় নেতাকে দেয়া সাজার আদেশ সুপ্রিম কোর্ট বাতিল ঘোষণা দেয়ার পর তা ঠেকাতেই প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন জরুরি অবস্থা জারি করেন।
মালদ্বীভিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এমডিপি) নেতৃত্বে গঠিত বিরোধী জোটের নেতৃত্বে আছেন দেশটির সিনিয়র নেতা ও অভিজ্ঞ আইনপ্রণেতা ইবরাহিম মোহাম্মদ সালিহ। গত সোমবার শ্রীলঙ্কায় বসবাসরত মালদ্বীপের নাগরিকের সাথে কথা বলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদসহ এই নেতা। মোহাম্মাদ নাশিদ গত বছর থেকে শ্রীলঙ্কায় নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন।
অনুষ্ঠানের পর রাজধানী কলম্বোয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মোহাম্মদ সালিহ বলেন, ‘মালদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত’।
ইবরাহিম মোহাম্মদ সালিহ ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার আশা করছেন কি না জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তর দেন, ‘না’। তবে সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিরোধীদলগুলো বেশির ভাগ ভোটারের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৩০ হাজার মালদ্বীভিয়ান নাগরিক বসবাস করে বলে জানিয়েছে ইবরাহিম সলিহের দল। দেশের বাইরে প্রবাসে শুধু শ্রীলঙ্কায়ই এত বিশাল মালদ্বীভিয়ান নাগরিক বসবাস করে।
অন্য দিকে, নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এমন সব বিরোধীদলীয় নেতাকেই একে একে বন্দী করা হচ্ছে বলে বিরোধী পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও প্রেসিডেন্ট ও সরকারের তরফ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন তার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে নির্বাচনের ফল জালিয়াতির চেষ্টা করবেন এবং আমরা এই বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখছি; কিন্তু যখন মানুষ স্বপ্রণোদিতভাবে বিশাল সংখ্যায় সামনে এগিয়ে আসবে, তখন তার (আবদুল্লাহ ইয়ামিন) অন্য কিছু করার সুযোগ থাকবে না।’
এদিকে এক বিবৃতিতে মালদ্বীপ সরকারের মুখপাত্র ইবরাহিম হুসাইন শিহাবোন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন সাংবিধানিক কর্মকাণ্ডের বাইরে কিছুই করছে না এবং আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
অপর দিকে ইবরাহিম সলিহের মন্তব্যের জবাবে শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হুসাইন শরিফ বলেছেন, ‘বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে নিজেদের পরাজয় দেখতে পারছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের মুখ রক্ষা ও নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত করতে উল্টাপাল্টা কথা বলছে।’
উল্লেখ্য, সন্ত্রাসের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদকে অভিযুক্ত করে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয় মালদ্বীপের একটি আদালত। পরবর্তী বছর ২০১৬ সালে মালদ্বীপের সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ব্রিটেনে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় এবং সেখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন। গত বছর থেকে তিনি শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছেন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে পরাজিত করার লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করছেন।






