বিশ্ব অভিবাসী দিবস উপলক্ষে ব্রুনাই দারুসসালামস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন আটজন শীর্ষ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রবাসীকে সন্মাননা জানিয়েছে। শুক্রবার দেশটির রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানের অদূরে জেরুডং এলাকার রয়্যাল বার্কশায়ারের কান্ট্রি ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক লাখ মার্কিন ডলারের অধিক রেমিট্যান্স প্রেরণকারী বাংলাদেশীকে এ সন্মাননা জানানো হয়। হাইকমিশনার নাহিদা রহমান সুমনা তাদের হাতে সন্মাননা স্মারক এবং প্রশংসাপত্র তুলে দেন।
যাদের এই সন্মাননা দেয়া হয়েছে তারা হলেন মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন হায়দার, এ কে এম জসিম উদ্দিন, মো: কাজী জসিম উদ্দিন, মো: আশরাফ আলী, মো: শাহজালাল মাসুদ ও মোহাম্মদ দুলাল হোসেন।
এর আগে হাইকমিশনার নাহিদা রহমান সুমনার সভাপতিত্বে বিশ্ব অভিবাসী দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন হাইকমিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) জিলাল হোসেন।
‘বাংলাদেশীদের ব্রুনাইতে অভিবাসন : প্রেক্ষিত ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধে জিলাল হোসেন জানান, অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসনের অভাব থাকলে শ্রম শোষণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, মানব পাচারের মতো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুযোগ থাকে। নিরাপদ ও নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করার জ্য প্রয়োজনীয় আইন থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন আইনের নৈব্যক্তিক ও সময়োচিত প্রয়োগ।
আলোচনা সভায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ওমান ও লাওসের ব্রুনাইস্থ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকবৃন্দ এবং বিদেশি করপোরেট কোম্পানি, ব্রুনাই সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি ও বাংলাদেশী কমিউনিটির শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার নাহিদা রহমান সুমনা বলেন, শ্রমবঞ্চনা, মানব পাচার বন্ধ করতে হলে প্রতিটি ভিসার বিপরীতে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে এবং নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে হবে। যাতে প্রত্যেক অভিবাসী শ্রমিক বিদেশের মাটিতে প্রতিশ্রুত চাকরি, বেতন এবং আবাসন ও বীমা সুবিধা পায়। কোনো নিয়োগকারী কোম্পানি কোনো অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় প্রতিকার বিধার করতে হবে।
উল্লেখ্য, ব্রুনাইতে প্রায় ২৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশী বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন।






