মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিনের পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যরা। সোমবার রাজধানী কুয়ালালামপুরের মারদেকা স্কয়ারে পার্লামেন্ট সদস্যের এই বিক্ষোভে একজোট হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ও বিরোধীদলীয় নেতা আনোয়ার ইবরাহিম।
করোনাভাইরাস সংক্রমণে মালয়েশিয়ায় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগে এই বিক্ষোভ করেন পার্লামেন্ট সদস্যরা।
ব্লুমবার্গের খবরে জানানো হয়, বিক্ষোভে পার্লামেন্টের ২৯২ সদস্যের মধ্যে ১০৭ জন অংশ নিয়েছেন। মাহাথির-আনোয়ারের নেতৃত্বে তারা পার্লামেন্ট ভবন ঘেরাও করার চেষ্টা করেন। কিন্তু দাঙ্গা পুলিশের বাধার মুখে পিছু হটেন তারা।
মিছিলের কয়েক ঘণ্টা আগেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পার্লামেন্ট অভিমুখী রাস্তা বন্ধ করে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভে বক্তৃতায় আনোয়ার ইবরাহিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মহিউদ্দিনের আজ পতন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান ও রাজার ডিক্রির বিরুদ্ধে যাওয়ায় ও আইনপ্রণেতাদের তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ায় বিরোধীদলীয় ১০৭ জন আইনপ্রণেতার সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছে।’
মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ‘করোনায় হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। এর পরও তিনি (মুহিউদ্দিন ইয়াসিন) ক্ষমতায় আকড়ে রয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আন্দোলনের পথেই দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটতে পারে এবং ১৭ মাস আগে থেকে চলা স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও সামাজিক সংকটগুলো সমাধানে পূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে।’
মালয়েশিয়ায় কঠোর লকডাউন থাকা সত্ত্বেও গত কিছুদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন এবং তার মন্ত্রিসভা বিরোধীদের তোপের মুখে পড়ে।
করোনা পরিস্থিতিতে এই বছর জানুয়ারিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। তখন পার্লামেন্ট অধিবেশনও স্থগিত করা হয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের এক ‘বিশেষ অধিবেশন’ শুরু হয়।
পার্লামেন্টের বিশেষ এ অধিবেশন সোমবার পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পার্লামেন্টের ভেতরে বেশ কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তা বাতিল করে দেওয়া হয়।
সূত্র : আলজাজিরা ও ব্লুমবার্গ






