উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে যে তারা বৃহস্পতিবার নতুন একটি বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে। এক মাসের কম সময়ের মধ্যে এই নিয়ে চতুর্থবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করলো দেশটি।

নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কয়েকদিন আগেই উত্তর কোরিয়া একটি হাইপারসনিক মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে, যেটির পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন মন্তব্য করেছেন, এসব অস্ত্র পরীক্ষা 'অস্থিতিশীলতা ও অনিরাপত্তার আশঙ্কাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।'

পিয়ংইয়ংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্র তাদের নিজেদের সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থানকে 'দ্বিমুখী আচরণ' হিসেবে মনে করছে তারা।

আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেও উত্তর কোরিয়া যে তাদের অস্ত্র তৈরি ও উন্নয়ন কার্যক্রম থামাবে না, সাম্প্রতিক অস্ত্র পরীক্ষাগুলোকে তারই ইঙ্গিত মনে করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএর খবরে বলা হচ্ছে যে নতুন বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র 'যুদ্ধক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা' প্রদর্শন করবে।

নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার খবর এমন দিনে জানা গেলো, যার আগের দিন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সরাসরি যোগাযোগের হটলাইন সেবা পুনরায় চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে কিম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন কূটনৈতিক সমঝোতায় 'গোয়েন্দাগিরি' করার।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার মাধ্যমে পিয়ংইয়ং যে ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে সুসম্পর্ক ভাঙতে চাইছে - এই মন্তব্য তারই ইঙ্গিত।

এমনও হতে পারে যে, ওয়াশিংটন যেন উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে, সেজন্য সিউলের ওপর আস্থা রাখবে পিয়ংইয়ং।

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে উত্তর কোরিয়া বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

মহামারির মধ্যে নিজেদের সবচেয়ে কাছের মিত্র চীনের সাথে প্রায় সব ধরণের বাণিজ্য বন্ধ রেখেছিল তারা। ধারণা করা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি শোচনীয় পরিস্থিতিতে রয়েছে এবং সেখানে তীব্র মাত্রায় খাদ্য সংকট চলছে।

এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মার্চে তারা ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা করেছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে তীব্র তিরস্কারের মুখে পড়ে তারা।

গত মাসে জাতিসঙ্ঘের পরমাণু সংস্থা জানিয়েছে যে উত্তর কোরিয়া একটি রিঅ্যাকটর পুনরায় চালু করেছে যেটি পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্লুটোনিয়াম তৈরি করতে সক্ষম।

জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা ওই কার্যক্রমকে 'অত্যন্ত আশঙ্কাজনক' হিসেবে আখ্যায়িত করছে।

সূত্র : বিবিসি