মিয়ানমারে কারাদণ্ড প্রাপ্ত মার্কিন সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টার মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার ইয়াঙ্গুনের এক কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
এর আগে শুক্রবার ড্যানি ফেনস্টারকে মিয়ানমারের অভিবাসন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন ভঙ্গের কারণে ১১ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।
জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দূত বিল রিচার্ডসন সোমবার এই কথা জানান।
তিনি বলেন, ফেনস্টার মিয়ানমার থেকে কাতার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন।
রিচার্ডসন বলেন, মিয়ানমারে জান্তা প্রধান মিন অং লাইংয়ের সাথে মুখোমুখি বৈঠকে তিনি ফেনস্টারের মুক্তির বিষয়ে কথা বলেন।
অপরদিকে ফেনস্টারকে নিয়োগ দেয়া সংবাদমাধ্যম ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারের প্রকাশকও তার মুক্তি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এক টুইট বার্তায় ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারের প্রকাশক সনি সু বলেন, ‘সুসংবাদ। ড্যানি ফেনস্টারের মুক্তির খবর আমি শুনেছি।’
অপরদিকে ফেনস্টারের মুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে সংবাদমাধ্যমটির এডিটর ইন চিফ টমাস ক্যান মিয়ানমারে বন্দী সকল সাংবাদিককে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘ড্যানি মিয়ানমারে সেই সকল সাংবাদিকদের অন্যতম যারা ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের পর থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার হয়েছিলেন।’
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ফেনস্টারকে ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারের ম্যানেজিং এডিটর হিসেবে কাজ করা ৩৭ বছর বয়সী এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উত্তেজক তথ্য ছড়ানো, অবৈধ সংগঠনের সাথে যোগাযোগ ও ভিসা নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়।
ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারে প্রায় এক শ’ সাংবাদিককে আটক করা হয়। বর্তমানে দেশটির কারাগারে ৩০ সাংবাদিক বন্দী রয়েছেন।
১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাতমাদাও দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থান ঘটায় এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। সাথে সাথে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। পরে ১ আগস্ট জরুরি অবস্থার মেয়াদ ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেন জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং লাইং।
গত বছরের নভেম্বরে দেশটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের জেরে এই অভ্যুত্থান ঘটায় সামরিক বাহিনী।
সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অং সান সু চিসহ বন্দী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির পাশাপাশি সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া অহিংস বিক্ষোভকে
সামরিক উপায়ে জান্তা সরকার দমন করতে গেলে বিক্ষোভকারীরাও বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র হাতে নেয়।
গত ৭ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট দেশের সাধারণ মানুষকে সামরিক জান্তার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোষণা দেয়।
১ ফেব্রুয়ারি থেকে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ ও সশস্ত্র তৎপরতায় সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে মিয়ানমারে এক হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী ও বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে দেশটিতে মানবাধিকার নজরদারি করা সংস্থাগুলো জানায়। একইসাথে দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি লোক গ্রেফতারির শিকার হয়।
অপরদিকে সামরিক বাহিনী নিহতের এই সংখ্যা অস্বীকার করে আসছে এবং সংঘর্ষে বিপুল সৈন্য নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা






