মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী পালন করছে দেশটির জান্তা সরকার। এমন সময়ে মিয়ানমারের জান্তা সরকার দাবি করেছে যে অং সান সুচির দল দুর্নীতির মাধ্যমে নির্বাচনে জিতেছে। তবে, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান পরবর্তী এক বছরে দেশটির জান্তা সরকারের হাতে ১৫ শ’ ব্যক্তি নিহত ও ১১ হাজার ব্যক্তি আটক হয়েছেন বলে দাবি করছে বিভিন্ন সংস্থা। মঙ্গলবার ইরাবতি নামের একটি গণমাধ্যম দাবি করেছে, মিয়ানমারের রাজনৈতিক বন্দীদের জন্য কাজ করা এক সহায়তা সংস্থা এমন তথ্য দিয়েছে।
ঠিক এক বছর আগে আজকের দিনে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। সামরিক অভ্যুত্থানের বিষয়ে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের দাবি, অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দুর্নীতির মাধ্যমে ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জিতেছে।
তবে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের বিষয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের বর্ণনার সাথে দেশটির সামরিক সরকারের ওই দাবির কোনো মিল নেই। কারণ, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ওই সাধারণ নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলে দাবি করেছেন। ওই নির্বাচনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দল ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ খুব খারাপ ফল করে।
মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পরে দেশটির গণতান্ত্রিক সরকারের সকল ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়। দেশটির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও গণতান্ত্রিক সরকারের মন্ত্রীদের বন্দী করা হয়। এ সময় মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচিকেও গ্রেফতার করা হয়।
ওই সময় মিয়ানমারের জান্তা সরকারবিরোধী শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলনকে ভয়ঙ্কর নিপীড়নের মাধ্যমে দমন করা হয়। মিয়ানমারজুড়ে দেশটির জান্তা সরকারের অভিযানে ১৫ শ’র বেশি মানুষ নিহত হন। এ সময় কমপক্ষে ১২০ শিশু নিহত হয়। মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান পরবর্তী এক বছরে এমন কোনো দিন নেই যখন কোনো মানুষ দেশটির সামরিক বাহিনীর হাতে মারা যায়নি। এ সময় জান্তা সরকারবিরোধী ১১ হাজার ৮০০ ব্যক্তিকে আটক করেও রাখা হয়েছে। মিয়ানমারের রাজনৈতিক বন্দীদের জন্য কাজ করা এক সহায়তা সংস্থা ‘এএপিপি’ এসব তথ্য দিয়েছে।
সূত্র : ইরাবতি






