মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই মামলার ঘোষণা করা হয়।
নতুন মামলায় অং সান সু চির বিরুদ্ধে তার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত এক দাতব্য ফাউন্ডেশনের কাজে সহায়তায় দেয়া পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ডলার (চার কোটি ৬৫ লাখ ৭৭ হাজার আট শ’ ৮৩ টাকা) তসরুফ করার অভিযোগ করা হয়।
সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে অবশ্য বলা হয়নি, কবে থেকে এই মামলার শুনানি শুরু হবে।
নতুন এই মামলার মাধ্যমে অং সান সু চির বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ১১তে দাঁড়ালো। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও টেলিযোগাযোগের একটি আইন লঙ্ঘনসহ সু চির বিরুদ্ধে আরো ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে বেসামরিক সরকারের সাথে মতপার্থক্যের জেরে অভ্যুত্থান ঘটায় সামরিক বাহিনী। এরপর থেকেই বন্দি রয়েছেন ৭৬ বছর বয়সী অং সান সু চি।
এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর উত্তেজনা ছড়ানো ও করোনাবিধি লঙ্ঘনের পৃথক দুই মামলায় সু চিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান মিন অঙ লাঙের আদেশে সু চির বিরুদ্ধে দুই বছরের কারাদণ্ড কমানো হয়।
পরে ১০ জানুয়ারি অবৈধভাবে ওয়াকিটকি রাখার মামলায় দুই বছর ও করোনাবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য অপর এক মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন সু চি।
এদিকে বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইঙ অঞ্চলে দুই গ্রাম সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে দিয়েছে সামরিক বাহিনী। জান্তাবিরোধী বিদ্রোহীদের সন্ধান করতে গিয়ে ওই গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানায় বার্তা সংস্থা এপি।
২০২০ সালে নভেম্বরে দেশটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের জেরে গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাতমাদা। অভ্যুত্থানের জেরে প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। সাথে সাথে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। পরে ১ আগস্ট জরুরি অবস্থার মেয়াদ ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেন জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং লাইং।
সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অং সান সু চিসহ বন্দী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির পাশাপাশি সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া অহিংস বিক্ষোভকে সামরিক উপায়ে জান্তা সরকার দমন করতে গেলে বিক্ষোভকারীরাও বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র হাতে নেয়।
গত বছর ৭ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট দেশের সাধারণ মানুষকে সামরিক জান্তার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোষণা দেয়।
মিয়ানমারের অবস্থা পর্যব্ক্ষেণকারী থাইল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস (এএপিপি) তাদের বৃহস্পতিবারে প্রতিবেদনে জানায়, ১ ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে তিন শ’ ৬৮ দিনে দেশটিতে বিক্ষোভে সামরিক জান্তার দমন অভিযানে মোট এক হাজার পাঁচ শ’ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, বিক্ষোভ সংশ্লিষ্টতায় সামরিক জান্তার হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ১১ হাজার নয় শ’ ৫১ জন।
সূত্র : আলজাজিরা






