মালয়েশিয়ায় রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে জালিয়াতি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিন বাংলাদেশী ও একজন স্থানীয় মালয়েশিয়ান নাগরিক রয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

আটককৃতদের সবার বয়স ২০ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করেনি পুলিশ।

সিন্ডিকেট চক্রটির কাছ থেকে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশের মোট ২৬৪টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। নতুন করে বৈধকরণ প্রক্রিয়া রিক্যালিব্রেশন এর জন্য অবৈধ ভাবে ভিসা করার কথা বলে চক্রটি প্রতারণা করছে বলে অভিবাসন সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়া অভিযানের সময় নগদ ৭,২৭০.০০ রিঙ্গিত পাওয়া গেছে। ধারনা করা হচ্ছে চক্রটি এ সম্পর্কিত দৈনিক লেনদেনের অংশ এটি।

অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা তথ্য ও ছবিতে বলা হয়েছে, সিন্ডিকেটটি আরটিকে প্রোগ্রামের অধীনে বিদেশী কর্মী কোটা প্রাপ্তির জন্য কিছু অবৈধ কোম্পানি ও বিলুপ্ত কোম্পানির নাম ব্যবহার করে এই প্রতারণা করছে।

সিন্ডিকেট চক্রটি এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিভিন্ন সেক্টরের জন্য একটি অস্থায়ী ওয়ার্ক ভিজিট পাস (পিএলকেএস) পেতে জনপ্রতি ৬,৫০০ রিঙ্গিত থেকে ৮,০০০ রিঙ্গিত আদায় করেছে। এভাবে চক্রটি বিদেশী অভিবাসীদের কাছ থেকে দুই মিলিয়ন রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়েছে ।

আরো অধিকতর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গ্রেফতারকৃতদের পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন বিভাগে নেয়া হয়েছে। ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট অ্যাক্ট ১৯৬৬ এবং ইমিগ্রেশন রুলস ১৯৬৩-এর অধীনে তদন্ত করা হচ্ছে। বিদেশী কর্মীরা বৈধতা গ্রহণের জন্য নিয়োগকর্তাদের সাথে সরাসরি লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এক্ষেত্রে বৈধতা পাওয়ার জন্য দালাল বা এজেন্টদের খপ্পরে পা না দেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি খাইরুল দাজাইমি দাউদ।