উন্নয়নের জন্য সংহতি এবং শান্তির দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা- এই প্রতিপাদ্যে ১১তম চীন-দক্ষিণ এশিয়া আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ফোরাম এর ‘ইয়ুথ সেলুন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইয়ুথ সেলুনে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তরুণ প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে বন্ধন এই দুটি বিষয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ইয়ুথ সেলুনটি চাইনিজ পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর ফ্রেন্ডশিপ উইথ ফরেন কান্ট্রিজ (সিপিএএফএফসি) এবং ইউনান প্রাদেশিক জনগণের সরকারের উদ্যেগে আয়োজন করা হয়।
চাইনিজ পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর ফ্রেন্ডশিপ উইথ ফরেন কান্ট্রিজের সভাপতি রাষ্ট্রদূত লিন সোংথিয়ান, চীনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মইন উল হক, ইউনান প্রাদেশিক পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ডেপুটি ডিরেক্টর লুও হংচিয়াং, চীনে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অফ মিশন কে কে যোগানদান উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনের বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত লিন সোংথিয়ান বলেন, চীন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ভৌগলিকভাবে সংযুক্ত এবং সাংস্কৃতিকভাবে একই রকম। করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় উভয় দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং অসুবিধাগুলো কাটিয়ে উঠতে একে অপরকে সাহায্য করেছে; যৌথভাবে মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছে।
তিনি আশা করেন, চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার তরুণরা পরিস্থিতিকে স্পষ্টভাবে চিনবে; ‘এশিয়া এক পরিবার’ ধারণার অনুশীলন করবে; সক্রিয়ভাবে ন্যায্যতা এবং ন্যায়বিচার বজায় রাখাসহ একটি শান্তিপূর্ণ, সহযোগিতামূলক, ঐক্যবদ্ধ এশিয়া ও বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য প্রচেষ্টা করবে।
ইয়ুথ সেলুনে বাংলাদেশ থেকে আলোচনায় অংশ নেয়া জন্য আমন্ত্রিত শিক্ষার্থীরা হলেন চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অফ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মোহাম্মদ ছাইয়েদুল ইসলাম, সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মো: সাদ্দাম হোসেন, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মো: তরিকুল ইসলাম।
ইয়ুথ সেলুনে যোগদানকারী যুব প্রতিনিধিরা চীন এবং দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। তার সম্মতি প্রকাশ করেন যে ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব অব্যাহত রাখবে, আন্তঃসাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে আত্মনিয়োগ করবে, জনগণের মধ্যে প্রচার করবে। মানুষে মানুষে বন্ধুত্ব, হৃদয়ে হৃদয়ে সংযোগ ও একটি ঘনিষ্ঠ চীন-দক্ষিণ এশিয়া সম্প্রদায় গড়ে তুলতে হাতে হাত রেখে কাজ করবে।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও নেপালের ২০০ জনেরও বেশি যুব প্রতিনিধি, শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধি, কূটনীতিক, স্কলারস, বিশেষজ্ঞ এবং পেশাজীবীরা ইয়ুথ সেলুনে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়াও ইউনান প্রাদেশিক জনগণের সরকারের সরকারি কর্মকর্তারা ও কর্মচারী, চাইনিজ পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর ফ্রেন্ডশিপ উইথ ফরেন কান্ট্রিস এবং ইউনান প্রভিন্সিয়াল পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর ফ্রেন্ডশিপ উইথ ফরেন কান্ট্রিসের কর্মকর্তারা ও কর্মচারীরা ইয়ুথ সেলুনে অংশ নেন।



