ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকার অনেক মহিলাই দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, তারা তাদের স্বামীদের মাতলামির কারণে চরম বিরক্ত। অ্যালকোহল নিষিদ্ধ করার জন্য তাদের করা এক আর্জি বিহারের ১০ কোটি মানুষকে প্রভাবিত করেছে। রাজ্য সরকার দাবি করছে, মদের কারণে ইতোমধ্যেই ওই এলাকাটিতে পারিবারিক সহিংসতা, ছোট-খাটো অপরাধ, এবং আয়-রোজগার নষ্ট করার ঘটনাগুলো দীর্ঘ মহামারীর রূপ নিয়েছে।
এইধরনের নারী-অধিকার কেন্দ্রিক ক্যাম্পেইনগুলো একশো ত্রিশ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশটির রাজনীতিবিদেরা এখন উপলব্ধি করতে পারছেন যে, ক্ষমতা চাইলে তাদের অবশ্যই নারীদের কথা শুনতে হবে।
রাজনীতিবিদরা তাই নানা রকম প্রতিশ্রুতির ঝাঁপিও খুলে বসেছেন সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নির্বাচনগুলোতে। মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষা, নববিবাহিত নারীদের জন্য অর্থসাহায্য এবং নারী পুলিশদের সমন্বয়ে বিশেষ থানা ইত্যাদি প্রতিশ্রুতি উচ্চ সমর্থন লাভ করেছে।
এর কারণ ভারতের পুরুষদের আধিপত্যময়, রক্ষণশীল সমাজে নারী ভোটাররা দ্রুত তাদের পায়ের তলায় শক্ত মাটি খুঁজে নিচ্ছে।
অ্যালকোহলে নিষেধাজ্ঞা।
যেসব রাজ্যে নারী ভোটারদের উচ্চ হার রয়েছে তার মধ্যে উত্তর ভারতের বিহার অন্যতম। সেখানে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ এবং অপরাধ, সাথে অ্যালকোহল আসক্তি- অনেক পরিবারের আয়-উপার্জন ধ্বংস করার সমস্যা দীর্ঘদিন।
২০১৫ সালের রাজ্য নির্বাচনে নারীদের উপস্থিতি পুরুষদের তুলনায় ৭% ছাড়িয়ে যায় এবং তাদের পরিষ্কার একটি বার্তা ছিল, আর সেটি হল: মদ থেকে পরিত্রাণ দাবি। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার তার প্রতিশ্রুত অঙ্গীকার অনুযায়ী ওই রাজ্যে মদ্যপান ও মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
২০১৬ সালের ৫ই এপ্রিল মদ্যপান এবং বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বিহারে ১৩ হাজার লোককে গ্রেফতার করা হয়। যদিও সেসময় অনেকেই এর বিপক্ষে থাকলেও রাজ্যের মহিলারা এর পক্ষে ছিলেন, কারণ তাদের মতামত ছিল, মদ্যপান পরিবারের মধ্যে নির্যাতন এবং দারিদ্র্য বাড়ায়।
এক কিংবা দুই বছরের মধ্যে সরকার জানায় যে, সহিংস অপরাধ ব্যাপকভাবে কমে গেছে, যেখানে গাড়ি এবং ট্রাক্টরের জন্য লোকজনের হাতে টাকা-পয়সা বেড়ে গেছে। তবে বিহারের হাইকোর্ট রাজ্যটিতে মদ বিক্রি ও পানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেয়।
সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট মেধা পাটকারের মত অনেক সামাজিক আন্দোলন কর্মী অন্যান্য রাজ্যে মদ্যপান নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতার সবচেয়ে বড় কারণ হল মদ’।
ভারতের আগামী জাতীয় নির্বাচনেও বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলগুলো তাদের এই দাবিটিকে মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।



