তালেবানের অগ্রযাত্রার মুখে রোববার বিকেলের দিকে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি কাবুল থেকে পালিয়ে যান। তিনি কোথায় গেছেন, তা নিয়ে সংশয় ছিল। অবশেষে জানা গেছে, তিনি এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন।
এদিকে তাজিকিস্তানে আফগান রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেছেন যে, গনি রোববার যখন দেশ ছাড়েন তখন তার সাথে করে তিনি ১৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার নিয়ে যান।
রাষ্ট্রদূত মোহম্মদ জহির আগবার, আশরাফ গনির আফগানিস্তান ত্যাগকে 'দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা' বলে বর্ণনা করেন।
তিনি তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবে-তে আফগান দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন।
তিনি আরো ঘোষণা করেন যে দূতাবাস সাবেক ডেপুটি প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহকে আফগানিস্তানের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
গতকাল বিবিসি নিউজের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় সালেহ নিজেকে 'আফগানিস্তানের বৈধ তত্ত্বাবধায়ক প্রেসিডেন্ট' দাবি করেন এবং বলেন 'যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি'।
তার পালানোর সময় খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে তিনি দুটি গাড়ি ও একটি হেলিকপ্টার বোঝাই করে টাকা নিয়ে গেছেন। এমনকি এই তিন যানে ভর্তি করার পরও তার কাছে আরো টাকা থাকায় সেগুলো বিমানবন্দরের টারমাকে ফেলে যান।
‘পার্সন নন গ্রাটা’ তকমা আঁটা সাবেক রাষ্ট্রপতি
দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তিন দিন আগে। তার পর আর খবর মেলেনি তার। এ বার জানা গেল, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয় নিয়েছেন সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। মানবাধিকার তাগিদে তাকে আশ্রয় দিয়েছে সে দেশের সরকার।
বুধবার সন্ধ্যায় আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গনিকে আশ্রয় দেয়ার কথা ঘোষণা করে। লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগ মানবিকতার তাগিদে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি এবং তার পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছে।’
রোববার তালিবান কাবুল দখল করার পরই দেশ ছেড়ে চলে যান গনি। প্রথমে শোনা যায়, তাজিকিস্তানে আশ্রয় নিতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সে দেশের সরকার তাকে ফিরিয়ে দেয়। এর পর গনি ওমানে রয়েছেন বলেও খবর মেলে। শেষ মেশ জানা গেল, সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছেন তিনি।
এই মুহূর্তে গনি এমন এক সাবেক রাষ্ট্রনেতা, যার গায়ে ‘পার্সন নন গ্রাটা’ তকমা সেঁটে গিয়েছে। কূটনীতির ভাষায় এর অর্থ, এমন এক রাষ্ট্রনেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি অথবা কূটনীতিবিদ, সব দেশে যার প্রবেশে অনুমতি নেই। এর আগে, ২০১৭ সালে থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলুক শিনাওত্রা দুবাইয়ে আশ্রয় পান। স্পেনের রাজা হুয়ান কার্লোস গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতেই আশ্রয় নেন। ২০০৭ সালে পাকিস্তানে খুন হওয়ার আগে সে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো দীর্ঘ আট বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয়ে ছিলেন।
অথচ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে তালিবান রাজত্বকে প্রকাশ্যে যে তিন দেশ সমর্থন জানিয়েছিল, সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের মধ্যে অন্যতম। বাদি দুই দেশ হলো, সৌদি আরব ও পাকিস্তান।
রোববার তালিবান কাবুল দখল করার পরই দেশ ছেড়ে চলে যান গনি। প্রথমে শোনা যায়, তাজিকিস্তানে আশ্রয় নিতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সে দেশের সরকার তাকে ফিরিয়ে দেয়। এর পর গনি ওমানে রয়েছেন বলেও খবর মেলে। শেষ মেশ জানা গেল, সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছেন তিনি।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা






