ভারতে অবস্থান করা কয়েক শ' আফগান নাগরিক তাদেরকে শরণার্থীর মর্যাদা দেয়ার দাবি করেছে। সোমবার নয়াদিল্লিতে জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) দফতরের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে এই দাবি জানান তারা।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা জানান, আফগানিস্তানের সংঘাত থেকে বাঁচতে তাদের বেশিরভাগই ১০ বছর আগে ভারতে পালিয়ে আসলেও এখনো পর্যন্ত তারা শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাননি।

বিশ্বের শরণার্থীদের রক্ষায় ১৯৫১ সালের জাতিসঙ্ঘের রিফিউজি কনভেনশন বা ১৯৬৭ সালের প্রটোকলে ভারত স্বাক্ষর করেনি।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালে পর্যন্ত ভারতে প্রায় ৪০ হাজার শরণার্থীর মধ্যে এক তৃতীয়াংশই ছিলো আফগান।

তবে সংস্থাটির রেজিস্ট্রেশনের বাইরে থাকা আরো অনেক শরণার্থীই বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পরই ভারতে বাস করা আফগানরা তাদেরকে শরণার্থী হিসেবে মর্যাদা দেয়ার দাবিতে সোমবার নয়াদিল্লিতে সমাবেশ করলো।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার জেরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় মার্কিন বাহিনী। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রসজ্জ্বিত মার্কিন সৈন্যদের হামলায় আফগানিস্তানের তৎকালীন তালেবান সরকার পিছু হটে।

তবে একটানা দুই দশক যুদ্ধ চলে দেশটিতে।

দীর্ঘ দুই দশক আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দেশটি থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় ওয়াশিংটন। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়।

চুক্তি অনুসারে ক্ষমতাসীন থাকা মার্কিন সমর্থনপুষ্ট আফগান সরকারের সমঝোতার জন্য তালেবান চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের মধ্যে পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালাতে শুরু করে তালেবান। মে থেকে অভিযান শুরুর পর সাড়ে তিন মাসের মাথায় রাজধানী কাবুলের অধিকার নেয় তালেবান যোদ্ধারা।

সূত্র : আলজাজিরা