প্রায় পুরো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর তালেবান নেতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের নাম ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনিই হতে যাচ্ছেন আফগানিস্তানের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান। ফলে তার সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়ছে।

মোল্লা আব্দুল গনি বারদার ১৯৬৮ সালে আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের দেহ রাহওয়াদ জেলার উইটমাক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দুররানি পশতুন জাতির অন্তর্ভুক্ত পোপালজাই বংশোদ্ভূত। তিনি কান্দাহার শহরে বসবাস করেন এবং স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়ালেখা করেন।

৮০-এর দশকে আব্দুল গনি বারদার সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আফগান জিহাদে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মুজাহিদিনদের একটি দলে মোল্লা মোহাম্মদ ওমরের ডেপুটি ছিলেন। যুব বয়সেই মোল্লা ওমরের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওমর তাকে বারদার (ভাই) বলে সম্বোধন করতেন। সেই থেকে তার নামের সাথে বারদার উপাধি লেগে যায়।

সোভিয়েত যুদ্ধের পর তিনি ওমরের সাথে মিলে কান্দাহারে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৯৪ সালে মোল্লা ওমর যে তিনজনকে সাথে নিয়ে তালেবান প্রতিষ্ঠা করেন বারদার ছিলেন তাদের অন্যতম।
১৯৯৬ সালে তালেবানের ইসলামী আমিরাত প্রতিষ্ঠার সময় তিনি সরকারের বিভিন্ন পদে দায়িত্বরত ছিলেন।
ইন্টারপোলের তথ্য মতে তিনি তালেবানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়া তিনি হেরাত ও নিমরুজ শহরের গভর্নর ছিলেন।

২০০১ সালে যখন আমেরিকা আফগানিস্তানে হামলা করে তখন মোল্লা আব্দুল গনি বারদার তাদের বিরুদ্ধে সম্মুখ ভাগে লড়াইয়ে অংশ নেন। তবে একপর্যায়ে তালেবানের প্রতিরক্ষা বাধ ভেঙে যায়। তাই তিনি মোল্লা ওমরকে সাথে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
২০১০ সালে পাকিস্তানে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় আইএস‌ই (পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা) বারদারকে গ্রেফতার করে।

২৫ অক্টোবর ২০১৮ সালে পাকিস্তান তাকে ছেড়ে দেয় আমেরিকার সাথে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে। এরপর তিনি কাতারের দোহায় অবস্থিত তালেবানের একমাত্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হোন। তিনি আমেরিকার সাথে আফগান শান্তি আলোচনায় তালেবানের নেতৃত্ব দেন।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি তালেবানের পক্ষে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়ে দোহা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

মোল্লা আব্দুল গনি বারদারকে তালেবানের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় নেতাদের একজন ভাবা হয়। বর্তমানে তিনি তালেবান আমির মোল্লা হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদার তিন ডেপুটির একজন এবং ইসলামী আমিরাত আফগানিস্তানের রাজনৈতিক প্রধান। ধারণা করা হচ্ছে তালেবান সরকার গঠন করার পর তিনিই আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান হবেন।
১৭ আগস্ট ২০২১ তালেবানের আফগানিস্তান পূর্ণ উদ্ধারের পর তিনি দীর্ঘ ২০ বছর পর আবার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।