সম্প্রতি ফরাসি পত্রিকা লে-মঁদে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে আফগানিস্তানে ২০ বছরব্যাপী মার্কিন আগ্রাসনের ফলে দেশটি মাদকরাজ্যে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি দেশটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ হেরোইনের কাঁচামালের উৎপাদনস্থলও বটে।

কেমন ছিল তালেবান-পূর্ব আফগানিস্তান?

১৯৯৬ সালে তালেবানের ক্ষমতা দখলের আগে দেশটি মাদক উৎপাদন ও ব্যবসায় ডুবে ছিল। এমনকি দেশটির মোট জাতীয় আয় বা জিডিপির ২০-৩০ শতাংশ আয়ের উৎস ছিল আফিম চাষ।

তালেবানের আফিম নিষিদ্ধকরণ :

২০০০ সালে তালেবানপ্রধান মোল্লা উমর এক ফতোয়ায় আফিম ব্যবসা নিষিদ্ধ করেন। ফলে তালেবান নিয়ন্ত্রিত প্রায় পুরো আফগানিস্তানে আফিম চাষ বন্ধ হয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক হেরোইন ব্যবসায় নজীরবিহীন ধ্স নামে।

আফিম নিষিদ্ধকরণ তালেবানের পতন ত্বরান্বিত করে :

লে-মঁদের পত্রিকার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও কোণঠাসা পরিস্থিতি কাটাতে তালেবান আফিম নিষিদ্ধ করে।
কিন্তু এটি দেশের কৃষিব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলে। ফলে ২০০১ সালে নাইন-ইলেভেন-পরবর্তী ইঙ্গ-মার্কিন হামলার সময় তালেবানের পরাজয় ত্বরান্বিত হয়।

মার্কিন আগ্রাসন মাদকব্যবসাকে পুনরায় চাঙ্গা করে :

আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের পর মাদক ব্যবসা পুনরায় চাঙ্গা হয়ে ওঠে। নতুন সরকারের ঘনিষ্ঠরাও এতে জড়িয়ে পড়ে।
ফলে মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় ২০০৬ সালের মধ্যে আফগানিস্তান বিশ্বের ৯০ শতাংশ হেরোইনের উৎপাদনস্থলে পরিণত হয়।

বিপুল সম্পদ ব্যয়ের পর ফলাফল শূন্য :
১. যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরব্যাপী যুদ্ধে এক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরও তালেবান এখন আগের তুলনায় অধিক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

২. মাদক দমনে প্রতিদিন দেড় মিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরও আফগানিস্তান বিশ্বের সর্ববৃহৎ মাদক রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

সূত্র : মাইদান, আলজাজিরা