কাশ্মিরের স্বাধীকারকামী নেতা সাইয়েদ আলী শাহ গিলানির লাশ পরিবারের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গোপনে দাফন করায় নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রোববার এক টুইট বার্তায় এই নিন্দা জানান তিনি।
টুইট বার্তায় ইমরান খান বলেন, 'কাশ্মিরের অন্যতম সম্মানিত ও আদর্শবাদী নেতা ৯২ বছর বয়সী সাইয়েদ আলী গিলানির লাশ ছিনিয়ে নেয়া এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া নাৎসি অনুপ্রাণিত আরএসএস-বিজেপি সরকারের ফ্যাসিবাদের অধীন ভারতের আরেকটি লজ্জ্বাজনক উদাহরণ।'
Snatching the body of the 92 year old Syed Ali Geelani, one of the most respected & principled Kashmiri ldrs, & then registering cases against his family is just another shameful example of India’s descent into fascism under the Nazi-inspired RSS-BJP govthttps://t.co/GUZswvIRwN
— Imran Khan (@ImranKhanPTI) September 5, 2021
টুইট বার্তার সাথে তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত গিলানির পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার খবরটি সংযুক্ত করেন।
এর আগে বুধবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় সাইয়েদ আলী গিলানি কাশ্মিরের রাজধানী শ্রিনগরের হায়দারপোরায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।
গিলানির মৃত্যুর পর বুধবার দিবাগত রাতে কাশ্মিরে ভারতীয় পুলিশ তার লাশ ছিনিয়ে নিয়ে গোপনে দাফন কাজ সম্পন্ন করে।
পরিবার অভিযোগ করছে, গিলানির শেষ ইচ্ছা অনুসারে তাকে শ্রিনগরের ঈদগাহের কাছে মাজার-ই-শুহাদা কবরস্তানে দাফনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হলেও রাত সাড়ে তিনটায় সরকারি বাহিনী বাড়িতে এসে তার লাশ ছিনিয়ে নেয় এবং বাড়ির কাছে এক কবরস্তানে গোপনে দাফন করে।
তবে কাশ্মির পুলিশ এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছে।
কাশ্মির পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বিজয় কুমার বলেছিলেন, কোনো দুষ্কৃতি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সেই লক্ষ্যে পুলিশ ঘর থেকে কবরস্তান পর্যন্ত লাশের নিরাপত্তা দিয়েছে।
পরে শনিবার সাইয়েদ আলী শাহ গিলানির পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়া ও গিলানির লাশ পাকিস্তানের পতাকায় আবৃত করার মতো দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য মামলা দায়ের করা হয়।
কাশ্মিরে ভারত শাসনের বিরোধী স্বাধীকারকামী সংগঠনগুলোর সম্মিলিত জোট অল পার্টিস হুররিয়াত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাইয়েদ আলী শাহ গিলানি। হুররিয়াত নেতাদের মধ্যে তাকে কট্টরপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণকারী গিলানি তার জীবনের পুরো সময় কাশ্মিরের স্বাধীকার আন্দোলনে ব্যয় করেছেন। ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণে বহুবার কারাগারে ও গৃহবন্দীত্বে থাকতে হয়েছে তাকে। গত এক দশকের প্রায় পুরো সময়েই গৃহবন্দীত্বে ছিলেন তিনি। বার্ধক্য ও দীর্ঘ অসুস্থতায় গত বছর রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছিলেন তিনি।
সূত্র : দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল






