আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই দাবি করেছেন, ১৫ আগস্ট তালেবান যোদ্ধারা কাবুল দখল করেনি। বরং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির গোপনে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি হওয়ায় আফগান রাজধানীতে তালেবান যোদ্ধাদের তিনি আমন্ত্রণ জানান।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাথে এক সাক্ষাতকারে এই কথা জানান তিনি।
সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আশরাফ গনি ও তার দলের লোকেরা দেশ ছাড়ার পর তিনি ‘দেশ ও শহরে যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং অযাচিত উপাদান সাথে দেশের দোকানপাট লুট করতে না পারে, তাই জনগণকে রক্ষার উদ্দেশ্যে’ তালেবান যোদ্ধাদের কাবুলে আমন্ত্রণ জানান।
কারজাই বলেন, গনি পালানোর সাথে সাথে তার প্রশাসনের সবাই কাবুল ছেড়ে পালিয়ে যান। এমনকি তৎকালীন কাবুল পুলিশের প্রধানও শহর ছেড়ে পালিয়ে যান।
কাতারের দোহায় তালেবান নেতৃত্বের সাথে আলোচনারত আফগান সরকারের প্রধান আলোচক আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর কোনো চুক্তিতে পৌঁছার পূর্বে গনি তাড়াহুড়া করে কাবুল ছাড়েন বলে জানান হামিদ কারজাই।
সম্ভাব্য চুক্তির জন্য ১৪ আগস্ট থেকেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলো।
হামিদ কারজাই ও আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ আশরাফ গনির সাথে সাক্ষাত করে বলেছিলেন, ক্ষমতা ভাগাভাগির বিষয়ে ১৫ সদস্যের একটি দল পরদিন দোহায় তালেবান নেতৃত্বের সাথে আলোচনা করতে যাবেন।
কাতারের তালেবান নেতৃত্ব তাদের জানিয়েছিলো, কোনো প্রকার চুক্তির আগপর্যন্ত তালেবানের যোদ্ধারা কাবুলের বাইরে অবস্থান করবে।
হামিদ কারজাই সাক্ষাতকারে বলেন, ১৫ আগস্ট সকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করছিলেন। শহরের পরিস্থিতি অশান্ত ও অস্থির ছিলো। এমন সময় গুজব ছড়িয়ে পড়ে তালেবান কাবুল দখল করে নিয়েছে।
হামিদ কারজাই জানান, ওই সময় তিনি দোহায় ফোন করেন। তাকে জানানো হয়, তালেবান যোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করবে না।
তিনি বলেন, দুপুরে তালেবানের পক্ষ থেকে ফোনে তাকে বলা হয়, ‘সরকার তার অবস্থানেই যেন থাকে এবং তার কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই কেননা তাদের (তালেবানের) শহরে ঢোকার কোনো উদ্দেশ্য নেই।’
কিন্তু স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে ৩টায় আশরাফ গনির কাবুল ছেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। হামিদ কারজাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমনকি কাবুল পুলিশের প্রধানকে ফোন করেন। কিন্তু সবাই দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলো।
তিনি বলেন, ‘রাজধানীতে কোনো কর্মকর্তাই উপস্থিত ছিলেন না। না পুলিশ প্রধান, না সামরিক অধিনায়ক, না কোনো সৈন্য দল। সবাই যার যার অবস্থান ছেড়ে পালিয়েছিলো।’
কারজাই বলেন, তিনি তালেবান নেতৃত্বের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন এবঙ বিশ্বের উচিত তাদের সাথে সংযুক্ত হওয়া।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সাথে তাদের যেকোনো উপায়ে সংযুক্ত হওয়া প্রয়োজন।’
সাক্ষাতকারে তালেবানের সম্পর্কে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাধারণ কিছু ধারণার নিন্দা জানান হামিদ কারজাই।
পুরুষ সঙ্গী ছাড়া আফগানিস্তানে নারী ও মেয়েরা তাদের বাড়ির বাইরে বের হতে পারছে না, এমন অভিযোগ উড়িয়ে দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এটি সত্য নয়। রাস্তায় মেয়ে ও নারীরাও রয়েছে। কাবুলের বাস্তব পরিস্থিতি তার সাক্ষ্য দিচ্ছে।’
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড






